যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক মুহূর্তেই
একটি সুখী পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকার নিভে গেছে তিনটি প্রাণের আলো, আর মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন পরিবারের আরও তিন সদস্য।
সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের ফাঁকা সড়কে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। ছুটে এসে তারা দেখতে পান, একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি বিশাল বটগাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। গাড়িটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়, যা থেকে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা সহজেই অনুমান করা যায়।
নিহতরা হলেন, মাহমুদুল হাসান জনি (৪৫), তার পিতা আব্দুল মজিদ সরদার (৬৫) এবং জনির চার বছর বয়সী শিশু সন্তান মাহাবিন হাসান সেহেরিস (৪)। তাদের বাড়ি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হাকোবা গ্রামে। একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের মাতম বইছে। বিশেষ করে নিষ্পাপ শিশু সেহেরিসের মৃত্যু এলাকাবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সাবরিনা জাহান সুমি (৩৫), মনোয়ারা বেগম (৬০) ও শামিন আলমাছ (১২)। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি প্রাইভেটকারে করে চুয়াডাঙ্গা থেকে দাওয়াত খেয়ে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন তারা। রাত গভীর হওয়ায় সড়কে যানবাহনের চাপ ছিল কম। কিন্তু গাইদঘাট এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে দ্রুতগতির গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি বড় বটগাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই মাহমুদুল হাসান জনি ও তার পিতা আব্দুল মজিদ সরদার নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জুবায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশু মাহাবিন হাসান সেহেরিসকে মৃত ঘোষণা করেন।
দূর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। আহতদের দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ছিন্নভিন্ন গাড়ি, আহতদের আর্তনাদ এবং স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
বারবাজার হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতি অথবা চালকের তন্দ্রাচ্ছন্নতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ফলে চালক ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন, যা নিয়ন্ত্রণ হারানোর অন্যতম কারণ হতে পারে। তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









