শরণখোলায় রিয়া মনি (১৬) নামে এক কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে উপজেলার রাজৈর গ্রামের মাওলানা এ কে এম ইউসুফ সাহেবের বাড়ির কবরস্থান সংলগ্ন মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতে এসে মুসল্লীরা রাস্তায় ওই যুবতীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামিনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাগেরহাট থেকে পিবিআই এর একটি টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে বলে জানাগেছে।
রিয়া মনির নানি রাজৈর গ্রামের হালিমা বেগম জানান, রিয়া মনির বাবা আলী আজিমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর মা হনুফা বেগম অন্যত্র বিয়ে করে চট্টগ্রামে বসবাস করছেন। মা বাবা আলাদা হয়ে যাওয়ায় ছোটবেলা থেকেই রিয়া মনি তার কাছে থাকতো।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিকালে সে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসে। রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় সকালে নাতিকে খুজতে সে রাজৈর খেয়াঘাট এলাকায় আসে। সেখানে মানুষের কাছে একটি মেয়ের লাশ পড়ে থাকার খবর শুনতে পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার নাতি রিয়া মনির গলা কাটা লাশ দেখতে পায়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, অল্প বয়সে মা বাবার বিবাহ বিচ্ছেদের কারনে রাজৈর গ্রামের খালাতো নানি হালিমা বেগমের কাছে লালিত পালিত হন রিয়া মনি। হালিমা বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। অনেকটা অনাদরে অবহেলায় বেড়ে ওঠায় কিশোরী রিয়া মনি সহজেই জড়িয়ে পড়েন অপরাধ জগতে। প্রভাবশালী একটি মহল তাকে দিয়ে মাদক ব্যবসা ও হানিট্রাপের মত কাজে ব্যবহার করতো বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজৈর গ্রামের বাসিন্দা খোন্তাকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ কবির হোসেন জানান, আমাদের বাড়ির মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে খবর পেয়ে আমি শরণখোলা থানা পুলিশ কে অবহিত করি। গভীর রাতে দূর্বৃত্তরা মেয়েটিকে এখানে এনে পরিকল্পিত হাতে ভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে। পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় মেয়েটি অল্প বয়সেই মাদক ও উশৃংখল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার কারনে কোন দূর্বৃত্ত চক্রের হাতে সে খুন হতে পারে বলে ধারনা করেন তিনি।
শরণখোলা থানার ওসি মো. শামিনুল হক জানান, এটি একটি পরিকল্পিত খুন। মেয়েটা মাদকাসক্ত ছিলো বলো জানাযায়। এ বিষয় তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করি দ্রুত এ হত্যার রহস্য উন্মোচিত হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









