পরিচয় তৃতীয় লিঙ্গ, যা এক সময় হয়ে উঠেছিল অবহেলা, বঞ্চনা আর অন্ধকার জীবনের কারণ। কিন্তু হার মানেননি তিনি। নিজের সংগ্রাম আর মানুষের সহায়তায় আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মেহেরুন। শুধু নিজের জন্য নয়, নিজের মেয়ের স্বপ্ন বাঁচাতেই তার এই লড়াই।
যমুনা নদী ঘেঁষা মকিমপুর চর। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই এখানকার মানুষের জীবন। আর এই চরের এক প্রান্তে এক সময় সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত জীবনের ভার বইতেন মেহেরুন। তৃতীয় লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে পরিবার ও সমাজ থেকে ধীরে ধীরে ছিটকে পড়েন তিনি। সহপাঠীদের সঙ্গে থেকে টাকা তোলাই হয়ে ওঠে জীবিকার একমাত্র পথ। ছিল না স্থায়ী ঘর, ছিল না নিশ্চিত ভবিষ্যৎ। কিন্তু ভিক্ষার জীবনে আটকে থাকতে চাননি মেহেরুন। নিজের ঘামে বাঁচার ইচ্ছাই তাকে নতুন পথে হাঁটতে শিখিয়েছে। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন চাষাবাদ। মাটিতে হাত দিয়েই খুঁজে পান আত্মসম্মান।
আজ সেই মেহেরুনই চাষ করেন অন্যের জমি। পাশাপাশি গরু, ছাগল আর ভেড়া পালন করে নিজের আয়ের পথ তৈরি করেছেন নিজেই। মানবতার ফেরিওয়ালা মামুন বিশ্বাসের সহযোগিতায় আজ মাথার ওপর উঠেছে একটি নিরাপদ ঘর। যা শুধু একটি ঘর নয়, এটা মেহেরুনের জীবনের স্থায়িত্বের প্রতীক।

মেহেরুন বলেন, “একজন মায়ের চোখে আজ শুধুই নিজের বেঁচে থাকা নয়, মেয়ের স্বপ্নটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
মামুন বিশ্বাস বলেন, এই গল্প শুধু একজনের নয়, সম্ভাবনার গল্প। সহানুভূতি দিয়ে নয়, সুযোগ আর সাহস দিলে মেহেরুনের মতো মানুষরাই সমাজ বদলে দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ ইসলাম বলেন, মেহেরুনকে আমরা ছোটবেলা থেকেই চিনি, মেহেরুন সারাদিন এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করতো। দোকানে দোকানে টাকা তুলত। কিন্তু সে এখন আর কোথাও যায় না। সারাদিন জমিতে কাজ করে। গরু-ছাগল লালনপালন করে। ওর এমন ঘুরে দাঁড়ানো দেখে আমরা এলাকার মানুষ সবাই খুশি।
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আফরিন জাহান বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে মেহেরুনের মতো আরও অনেক জীবন বদলানো সম্ভব। এমন যদি আরও মানুষ থাকে আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়াবো।
মকিমপুর চরের মেহেরুন আজ আর করুণা চান না। চান সম্মান, সুযোগ আর স্বীকৃতি। আর তার মেয়ের চোখে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। এই গল্প মনে করিয়ে দেয় একটু সহায়তা, একটু মানবিকতা আর সম্মিলিত চেষ্টাই অন্ধকার জীবনকে আলোর পথে ফেরাতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









