শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার প্ররোচনা ও পুলিশের যোগসাজশে মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক ফয়জুল হাসান ওরফে হাসান হাওলাদার “সময়ের আলো” পত্রিকার নড়িয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। গত ১৪ মার্চ বিকেলে নড়িয়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ সন্ধ্যায় নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের পুনাইখার কান্দি এলাকায় সোহাগ রাড়ী নামে এক ব্যক্তি হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় তার মামা দুলাল মুন্সী বাদী হয়ে ৯ মার্চ নড়িয়া থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ৮ নম্বর আসামি করা হয় সাংবাদিক হাসান হাওলাদারকে।
তবে ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। হাসানের বাবা আবুল হোসেন বলেন, মামলার এক স্বাক্ষী সুজন বেপারীর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরেই তার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসান হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে নড়িয়া উপজেলা সদরে বসবাস করেন এবং ঘটনাস্থল পুনাইখার কান্দিতে তার স্থায়ী বসবাস নেই। এমনকি ঘটনার সময় তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ থাকার কথাও জানিয়েছেন স্বজনরা।
এদিকে মামলার বাদী দুলাল মুন্সী জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে হাসানকে চেনেন না এবং ঘটনাস্থলেও তাকে দেখেননি। স্বাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই তাকে আসামি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে মামলার স্বাক্ষী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা সুজন বেপারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন বলে তাদের ধারণা। তবে তিনি বলেন, “সে নির্দোষ হলে আদালতেই প্রমাণ হবে।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনছের আলী বলেন, এজাহারে নাম থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া জানান, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









