মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা ও প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো অবদান নেই। তার এই বক্তব্যের পরপরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
সবার আগে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কাজী দিলীপ দাঁড়িয়ে ‘অবজেকশন’ বলে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরে আরও ১০ থেকে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা দাঁড়িয়ে একই সঙ্গে ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোলের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রতিবাদের মুখে বক্তা প্রশাসনের সহায়তায় মঞ্চ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) জুয়েল রানা, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিবাদকারী বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কাজী দিলীপ সাংবাদিকদের একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে অংশ নেই। ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য চলছিল। হঠাৎ করে এমন মন্তব্য শুনে আমি প্রথমে দাঁড়িয়ে আপত্তি জানাই। পরে আরও মুক্তিযোদ্ধারা আমার সঙ্গে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করেন।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা। তাকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতা, ৭ই মার্চের ভাষণ, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান কিংবা মুক্তিযুদ্ধ-কোনোটিই কল্পনা করা যায় না। তার অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
কাজী দিলীপ আরও বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্তি রয়েছে। দলমত নির্বিশেষে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করে সবার অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।'
তিনি মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, 'ভারত ও রাশিয়ার সমর্থন আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। নইলে এ দেশ ১০০ বছরও স্বাধীন হতো না। পাশাপাশি মাওলানা ভাসানীসহ অন্যান্য নেতাদের অবদানও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।'
এ বিষয়ে মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী মুঠোফোনে বলেন, 'যেখানে আমরা সদ্য স্বাধীনতা পেয়েছি, দেশ স্বাধীন হয়েছে। তবে ২৫ মার্চ রাত থেকে স্বাধীনতা পর্যন্ত শেখ মুজিব সাহেবের এ দেশ স্বাধীন হওয়ার পেছনে কোনো অবদান নেই-এটা সবাই স্বীকার করবে। আমি স্বাধীনতা বলতে বুঝিয়েছি ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত শেখ মুজিব সাহেবের কোনো ভূমিকা ছিল না। তখন তিনি ছিলেন পাকিস্তানে। এ সময় ভূমিকা ছিল জিয়াউর রহমানের এবং কর্নেল ওসমানীর।
তিনি আরও বলেন, 'এই কথা বলার পরে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা সরদার রশিদ, পরে তার সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এরপর জেলা প্রশাসন আমাকে বলেছিল আপনি বক্তব্য শেষ করেন। কিন্তু আমি বলেছি, আমার সম্পূর্ণ বক্তব্য শেষ হয়নি, আমাকে শেষ করতে দিন। পরে জেলা প্রশাসনের বাধায় আমি বক্তব্য শেষ করি। কিছুক্ষণ অনুষ্ঠানে থেকে আমি সেখান থেকে চলে আসি।'
ঘটনাটি নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়। তবে এ বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









