দীর্ঘ ৪ বছরেও সংস্কার হয়নি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি। ২০২০ সালে বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যায় কামরাবাদ ইউনিয়নের ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি। এরপর থেকেই ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তাই দুর্ভোগ লাঘবের জন্য দ্রুত এটি পুনর্নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে জানা যায়, জনবহুল ও জনগুরুত্বপূর্ণ উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর ঝিনাই নদীর ওপর ২০০৩-০৪ অর্থবছরে এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি। এটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০০৬ সালে। নির্মাণের ১৪ বছর পর, ২০২০ সালের ২১ জুলাই বন্যার পানির তোড়ে মাঝখানের ৪টি পিলার ও তিনটি স্পানসহ ৬০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
ফলে সরিষাবাড়ী উপজেলার সাথে কামরাবাদ ইউনিয়নের স্বাধীনাবাড়ি, সোনাকান্দ, বড়বাড়িয়া, বাঘমারা, শুয়াকৈর, ছাতারিয়া, আদ্রা, চুনিয়াপটল, রৌহা, নান্দিনা, ডিগ্রি পাছবাড়ি, মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলি ইউনিয়নের হাটবাড়ি, লোটাবর, রায়েরছড়া সহ ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয়রা। নদী পারাপারে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন বয়স্ক ও রোগীরা। এমনকি বর্ষা মৌসুমে নৌকায় পারাপার হতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দুই পাশ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। ফলে পানির তোড়ে সেতুটি ভেঙে যায়। সেখানে নতুন কোনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, এটি ছিল তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় আমির উদ্দিন, সোহরাব হোসেন, আমিনা বেগম ও আলপনা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ব্রিজটি ভাঙার পর থেকেই আমাদের আর দুঃখের শেষ নেই। আমরা ঠিকমতো যাতায়াত করতে পারছি না। আমাদের দুর্ভোগ লাঘবে কেউ এগিয়ে আসছে না।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, “ব্রিজের পাশ দিয়ে নতুন করে আরেকটি নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের পরিমাণ হিসাব করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নতুন নির্মাণ ব্যয়ের বরাদ্দ পেলেই টেন্ডার আহ্বান করা হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









