খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি শিশু রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩০০-তে পৌঁছেছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট ২৯৯ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এর মধ্যে কুষ্টিয়া জেলায় সর্বোচ্চ ১০৩ জন, যশোর জেলায় ৫৯ জন, খুলনা জেলায় ৬০ জনসহ অন্যান্য জেলাগুলোতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া বাগেরহাট জেলা, চুয়াডাঙ্গা জেলা, ঝিনাইদহ জেলা, মাগুরা জেলা, মেহেরপুর জেলা, নড়াইল জেলা ও সাতক্ষীরা জেলাতেও আক্রান্ত শিশু রয়েছে। ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনাকে হামের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়েদা রুকছানা পারভীন জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে।
তবে ৪৮ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে দুই শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ জটিলতায় ভুগলেও খুলনায় শিশুদের জন্য কোনো আইসিইউ বা ভেন্টিলেশন সুবিধা নেই। গুরুতর রোগীদের প্রয়োজন হলে ঢাকায় স্থানান্তরের কথা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খুলনায় হামের প্রকোপ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









