বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় ৫০০ টাকার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থেকে এক নবজাতক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্স চালক ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নবজাতক কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীরপাড়া গ্রামের মো. রোহানের ছেলে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে নবজাতকের মৃত্যুর খবরে আত্মীয়রা হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন রোগীর স্বজনরা।

স্থানীয় ও নিহত শিশুর পরিবার জানায়, মো. রোহানের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার শুক্রবার ১১টায় জেলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর থেকেই নবজাতক শিশুর শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকে। চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে রেফার্ড করেন। সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে সাড়ে ১২টায় নবজাতককে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ময়মনসিংহে রেফার্ড করা হয়। নবজাতককে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে গেটে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে আসেন।

এ সময় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহের ভাড়া জানতে চাইলে চালক সাইফুলসহ আরও কয়েকজন সাড়ে ৪ হাজার টাকা জানান। নবজাতকের পরিবারের সদস্যরা তখন সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ময়মনসিংহে ১,৬০০ টাকা উল্লেখ করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে চান। পরবর্তী ৪ হাজার টাকা ভাড়া দিতে চাইলেও অ্যাম্বুলেন্স চালকরা সাড়ে ৪ হাজার টাকার নিচে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। ভাড়া নিয়ে কথা চলার মাঝেই রাত তিনটার দিকে নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা হাসপাতালের অ্যালেন্স নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা বাইরের গাড়িকে রোগী বহনে বাধা দেয় এবং জোরপূর্বক যাত্রী নিজেদের গাড়িতে তুলতে বাধ্য করে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহে ১,৬০০ টাকা ও ঢাকা ২,৯০০ টাকা বলা থাকলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে দিগুণ ভাড়া নিতে হয়। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে যেতে হলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া থেকে দুই-তিন গুণ বেশি দিতে হয়। নইলে কোনো চালকই রোগী নিতে চায় না।”

এ ধরনের বর্বরতা বন্ধ না হলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা।

মো. রোহান দায়িত্বশীলদের অবহেলার অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতালের কাছেই আমার বাড়ি। আমার সাথেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, দূর থেকে আসা রোগীদের সঙ্গে কি চলছে? এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেদিকে হাসপাতাল ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম মুফোফোনে বলেন, “এটা আসলে আমাকে কেউ জানায়নি। আমি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। রোগীর লোকজন যদি আমাকে জানাতো তাহলে আমরা হয়তো বিষয়টাকে সমাধান করতে পারতাম। তারা যদি অ্যাম্বুলেন্স পাইতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই বিষয়টি সমাধান করব। তারপরেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মা বলেন, “এ বিষয়টি আমি জানি না। এটা তো পরিচালক বলতে পারবেন ভালো। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টিআর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.