নারায়ণগঞ্জ শহরের উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, হকার সমস্যার সমাধান, যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এর প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
শনিবার (২৮ মার্চ) নগর ভবনের হলরুমে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শহরের যানজট নিরসনে অটোরিকশা চালকদের ডিজিটাল প্লেট ও আইডি কার্ড প্রদানের মাধ্যমে প্রহরা বসিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং বঙ্গবন্ধু সড়কের হকারদের শীঘ্রই উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন নাসিক প্রশাসক। তবে যেসকল হকার ও অটোরিকশা চালকেরা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা তারাই এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আজ আপনারা যারা এখানে এসেছেন তারা সবচেয়ে শক্তিশালী। বাংলাদেশ শুধু নয়, বর্তমান বিশ্বে সরকারের তিনটি অঙ্গ। শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগ। এর সাথে চতুর্থ অংশ হিসেবে আমরা মিডিয়াকে ধরি। মিডিয়ার ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই। আপনাদের মতামতের প্রাধান্য দেয়া হবে। আমাদের সিদ্ধান্ত হল আমরা মূল সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ করতে চাই।অটো সমস্যারও সমাধান করতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা জানতাম সাড়ে সাত হাজার অটোর লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, পরে এখানে এসে জানলাম প্রায় ১৮ হাজার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এতটুকু শহরের এত অটোর ভার বহনের সক্ষমতা নেই। আমি পর্যালোচনা করে দেখেছি অনেক আড়ৎদার হয়েছে। তারা দুশো তিনশো করে লাইসেন্স নিয়েছে। আমি এটা রাখতে চাই না।
নাসিক প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রতিটি সড়কে লাইসেন্স থাকবে। এখানে তিন চাকা ছাড়া অন্য কোন গাড়ি ঢুকতে পারবে না। ওয়ান আইডি ওয়ান ভেহিক্যাল আমরা করবো। আমরা নমুনা তৈরি করেছি। এই প্লেটগুলো রেডি করেছি। এটা ডিজিটাল। এখানে প্রত্যেকের গলায় কার্ড থাকবে। আমাদের কর্মীদের কাছে স্ক্যানার থাকবে। এটা সঠিক কিনা তা সেই মেশিনের মাধ্যমে যাচাই হবে। একজনের নামে লাইসেন্স নিয়ে অন্য কেউ চালালে সেই লাইসেন্স বাতিল হবে।
তিনি বলেন, হকার ও অটোর সমস্যার মূলে যারা তাদের পঁচানব্বই শতাংশ মানুষ অন্য জেলার। তারা নারায়ণগঞ্জের ভোটার না। আমার ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত, যারা সিটির ভোটার তাদেরকেই আপাতত এগুলো দিবো। এরপর প্রতিটি রাস্তায় আমরা পাহারার ব্যবস্থা করবো। যেন বাইরের অটো নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করতে না পারে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হকারদের বিষয়টা হল আপাতত আমরা বঙ্গবন্ধু সড়কটি দ্রুত হকার মুক্ত করতে চাই। পরবর্তীতে প্রতিটি সড়ক আমরা হকার মুক্ত করবো। তবে হকাররাও এদেশের নাগরিক। আমরা তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করবো। তবে সেটা শুধুমাত্র সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের জন্য।
তিনি আরও বলেন, গত পনেরো বছর আমরা দেখেছি একটা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উচ্ছেদের। সেসময় একটা গোষ্ঠী দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। তারা তাদের রক্ষা করতে চেয়েছে। এবার সরকারি দলে সেরকম সমস্যা নেই। থাকলেও তারা মূল নেতৃত্বে নেই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









