নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপে দিন দিন কমে যাচ্ছে বনাঞ্চল। এর ফলে খাবার ও পানির সংকটে পড়ে বনের হরিণগুলো এখন লোকালয়ে চলে আসছে। সম্প্রতি দ্বীপটির বিভিন্ন গ্রামে হরিণের অবাধ বিচরণ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় নিঝুমদ্বীপের গভীর বনে হরিণের বিচরণ থাকলেও বর্তমানে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে—গ্রামের রাস্তা, বসতবাড়ির আঙিনা এমনকি ফসলি জমির পাশেও ঘুরে বেড়াচ্ছে হরিণের দল। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের দিকে এ প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় হরিণগুলো তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারাচ্ছে। পাশাপাশি বনে খাবার ও পানির অভাব দেখা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা লোকালয়ে চলে আসছে। এক বাসিন্দা বলেন, “আগে হরিণ শুধু বনে দেখা যেত, এখন প্রায়ই বাড়ির সামনে চলে আসে। মনে হয় ওরা খুব কষ্টে আছে।
এদিকে হরিণ লোকালয়ে চলে আসায় একদিকে যেমন বন্যপ্রাণীগুলো ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে মানুষের মাঝেও তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক। স্থানীয়দের মতে, অনেক সময় কৌতূহলী মানুষ হরিণকে ঘিরে ফেলায় প্রাণীগুলো ভয় পেয়ে দৌড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, নিঝুমদ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বন সংরক্ষণ, নতুন করে গাছ লাগানো এবং বন্যপ্রাণীর জন্য নিরাপদ পানি ও খাদ্যের ব্যবস্থা না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিঝুমদ্বীপের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









