বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবি

সাহান মারা যায়নি, দাবি বড় ভাইয়ের

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

সাহান মারা যায়নি, দাবি বড় ভাইয়ের

ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে নিহত ১০ জনের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা মো. সাহানের (২৫) নাম রয়েছে। তবে তিনি এখনও জীবিত বলে দাবি করে তার বড় ভাই মো. জাকারিয়া আহমদ জানান, তার ছোট ভাই সাহান এখনও বেঁচে আছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  

রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান তিনি। 

জাকারিয়া আহমেদ বলেন, “শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে ভিডিও কলে একজনের সাথে কথা হয়েছে। আমার ভাইয়ের সাথে যারা নৌকায় ছিল তাদের একজন আমাকে জানিয়েছে, আপনার ভাইরে আমি ছিনি (চিনেছি) ২ মাস ১০ দিন আমরা একসাথে ছিলাম। কোস্টগার্ডে উদ্ধার করে আপনার ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তবে সে খুব বেশি অসুস্থ।”

জাকারিয়া আরো জানান, আমাদের এলাকা থেকে কয়েকজন যুবক ইতোমধ্যেই এভাবেই লিবিয়া হয়ে ইউরোপে গিয়েছেন। এটা দেখে আমার ভাই বিদেশ যাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে, আমাকে বলে অনেক বন্ধুবান্ধব অনেকে যাইবো। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ফ্লাইট হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি সে লিবিয়া পৌঁছে।

তিনি আরো বলেন, ‘২২ মার্চ আমার ভাইয়ের সাথে শেষ কথা হইছে। সেসময় সে বলেছিল, ‘আমরা ভালো আছি, দোয়া করিও।”

তিনি আরও জানান, ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে লিবিয়া হয়ে ইউরোপ যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয় দালালের সাথে তবে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি শনিবার (২৮ মার্চ) তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ২২ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। ওই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, একই নৌকা থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।

অপর দিকে, গ্রিসের একটি ক্যাম্পে থাকা যুবক একটি সংবাদ মাধ্যমকে শনিবার রাতে মুঠোফোনে জানিয়েছেন, লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়। আর যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের রাখা হয়েছে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে। মারা যাওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন সুনামগঞ্জের এবং তাদের পরিচয় মিলেছে। মূলত খাবার ও খাওয়ার পানির সংকটের কারণেই তারা মারা যান বলে তিনি জানিয়েছেন। ওই যুবকের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ওই যুবক জানান, তিনি একইভাবে লিবিয়া থেকে ৬ মার্চ সাগরপথে গ্রিসে গিয়ে পৌঁছেছেন। পরে তাকে ওই ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ওই ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। গতকাল তিনি আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা সুস্থ আছেন। ওই যুবক বলেন, নৌযানটি পথ হারিয়ে ফেলে। ছয় দিন সাগরে ছিল। এ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণেই অনেকে মারা গেছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই সুনামগঞ্জের।

এ প্রসঙ্গে, সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার এদিনকে বলেন, ‘ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ১০ জন রয়েছেন বলে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাদের নাম–পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।’

রাহাত/সিলেট/অই

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.