যশোর সদর উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক অভিযান চালানো হলেও, এর মধ্যেই উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। কোথাও কোথাও তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। এতে করে শহরজুড়ে পরিবহন সংকট, বাড়তি ভাড়া এবং জনভোগান্তি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে উপজেলার মোট ৮টি তেলের পাম্প পরিদর্শন করা হয়। প্রতিটি পাম্পে সংরক্ষিত তেলের পরিমাণ, বিক্রয় কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয়। তবে অভিযান চলাকালেই শহরের মনিহার এলাকার যাত্রিক ফিলিং স্টেশনে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, পাম্পটিতে ৮১৫ লিটার পেট্রোল মজুদ থাকা সত্ত্বেও তা সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেকেই খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এতে করে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছে।
এ অনিয়মকে ‘ভোক্তা অধিকার’ লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় যাত্রিক ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে অভিযানে করিম ফিলিং স্টেশন, চলন্তিকা ফিলিং স্টেশন, প্রাইম ফিলিং স্টেশন, চয়নিকা ফিলিং স্টেশন, জালালউদ্দিন ফিলিং স্টেশন, আমিন ফিলিং স্টেশন এবং মনিহার সংলগ্ন মনির উদ্দিন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে তেলের মজুদ ও সরবরাহ কার্যক্রম মোটামুটি স্বাভাবিক পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে।
অভিযান পরিচালনা করেন সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসাইন। তিনি জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো পাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









