যশোরের গরুর মাংসের কালা ভুনার জন্য পরিচিত নাজমা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পচা-বাসি খাবার সংরক্ষণ এবং নোংরা ডিম ব্যবহারের দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের ব্যস্ত এমকে রোড এলাকায় ইডেন মার্কেটে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান। অভিযানে জেলা পুলিশের একটি দল এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) যশোরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান জানান, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারা অনুযায়ী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এসব কর্মকাণ্ডের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে নগদ এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি বলেন, “অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাসি-পচা খাবার বিক্রি করা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। সাধারণ মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমাদের এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন পরিবার নিয়ে এখানে খেতে আসি। বিশ্বাস করে টাকা খরচ করি। কিন্তু আজ যা দেখলাম, তাতে মনে হচ্ছে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।’
সাবিনা ইয়াসমিন নামের আরেক ভোক্তা বলেন, ‘বাইরে খেতে আসলে অন্তত নিরাপদ খাবার পাবো এই বিশ্বাসটাই ভেঙে গেল। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে বাইরে খাওয়াটা এখন ভয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
হোটেল মালিক মো. মনিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার না করলেও বিষয়টি ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, “ইচ্ছাকৃতভাবে পচা খাবার বিক্রির কোনো উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। কিছু খাবার সময়মতো ফেলে দেওয়া হয়নি এবং কর্মচারীদের অবহেলার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং ভবিষ্যতে যেন এমন না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









