ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিন দিন হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত তিন দিনে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি ১৩ দিনে হাম আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ৬৮ জন আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে।
পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনটি পৃথক মেডিক্যাল টিম গঠন করেছে এবং ৬৪ শয্যার আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে। এখানে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের ১৫৭ জন রোগী সন্দেহজনকভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৪ জনের ল্যাব পরীক্ষা শেষে ৫৭ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দার ছয় মাসের শিশু নুরুন্নবী ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সাত মাসের শিশু লিয়ন সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া নগরীর আকুয়া চুকাইতলা এলাকার দুই বছর বয়সী আয়াত ও সানকিপাড়া এলাকার ৭ মাসের আদনানও হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের ফোকাল পার্সন ডা. গোলাম মওলা বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। হাঁচি-কাশি, সরাসরি সংস্পর্শ বা কথা বলার মাধ্যমে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জটিলতা থেকে শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং চোখ ও মাথার প্রদাহসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. মাইন উদ্দিন খান বলেন, হাম রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য তিনটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে এবং ৬৪ শয্যার আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা জানান, ১৫৭ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৫৭ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









