দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামে এক সময় প্রায় অপ্রচলিত ফল হিসেবে পরিচিত লটকন এখন ধীরে ধীরে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে রূপ নিচ্ছে। স্বল্প খরচ, কম পরিচর্যা এবং বাজারে উচ্চ চাহিদার কারণে এ ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে।
এই গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা রাশেদুন নবী বাবু নিজ উদ্যোগে ইউটিউব ও বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক জার্নাল দেখে লটকন চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ২৫ শতক জমিতে ৩৫টি লটকনের চারা রোপণ করেন তিনি। প্রথম কয়েক বছর ফলন আশানুরূপ না হলেও চলতি মৌসুমে তার বাগানের প্রতিটি গাছে ভালো ফলন এসেছে, যা তাকে নতুন করে আশাবাদী করেছে।
রাশেদুন নবী বাবু জানান, “গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আশা করছি লাভও বেশি হবে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ৩০–৪০ কেজি লটকন পাওয়া যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, লটকন চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার খুবই কম। মূলত জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এতে উৎপাদন খরচ কম হয় এবং ফলটি নিরাপদ থাকে। স্থানীয় জাতের লটকন চাষ করেই তিনি সন্তোষজনক ফলন পেয়েছেন।
বর্তমানে বাজারে লটকনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি কেজি লটকন ১৫০–১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক একটি দিক। একই জমিতে লটকনের পাশাপাশি সুপারি ও মালটার মতো অন্যান্য ফসলও চাষ করছেন তিনি। তার ভাষায়, “লটকন মূলত সাথী ফসল হিসেবে চাষ করছি। শখের বসেই শুরু করেছিলাম, এখন তা লাভজনক হয়ে উঠছে।”
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “বীরগঞ্জ কৃষিতে অগ্রসর একটি উপজেলা। এখানে বিভিন্ন জাতের ফল চাষের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। লটকন চাষ বাণিজ্যিকভাবে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ আছে। এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল, বিশেষ করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও জানান, লটকন চাষে তুলনামূলকভাবে কম রাসায়নিক সার প্রয়োজন হয়, ফলে এটি নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফল হিসেবে বাজারে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করছে। বর্তমানে ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্যের দিকে ঝুঁকছেন, যা লটকনের বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে এ ফলের চাষ বাড়লে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শখ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









