বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

তিন মেয়ে নিয়ে স্ত্রী জাহানারার মানবেতর জীবনযাপন

৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি গিয়ে লাশ হলেন রফিকুল

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি গিয়ে লাশ হলেন রফিকুল

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ধারদেনা করে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিবারটির জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রবাসে পাড়ি দেওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় এক দুর্ঘটনায় রফিকুলের মৃত্যুতে তার স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দিশেহারা এই পরিবারটি এখন বেঁচে থাকার তাগিদে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী ইউনিয়নের শেখাহাতি গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জীবদ্দশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২৫ সালে পরিচিতজনের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে যান তিনি। জমি বিক্রি এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই বিশাল অংকের টাকা জোগাড় করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে মাত্র তিন মাস কাজ করার পর চতুর্থ মাসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে শেখাহাতি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট জরাজীর্ণ টিনের ঘরে তিন মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে দিন পার করছেন রফিকুলের স্ত্রী জাহানারা বেগম। ঘরে আসবাবপত্র বলতে কেবল একটি খাট। বড় মেয়ে রানীর (১৭) হাফেজি পড়ার ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট দুই সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতেই হিমশিম খাচ্ছেন মা জাহানারা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহানারা বেগম বলেন, "স্বামীকে বিদেশে পাঠাতে গিয়ে শেষ সম্বল জমিটুকুও বিক্রি করেছি। এখন পাওনাদারদের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তিন মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব? অনেক সময় না খেয়েও দিন কাটে আমাদের। সন্তানদের পড়াশোনা চালানো তো দূরের কথা, দুবেলা দুমুঠো ভাতেরই নিশ্চয়তা নেই। সরকার যদি একটু পাশে দাঁড়াতো, তবে আমার এতিম বাচ্চাগুলো অন্তত খেয়ে-পরে বাঁচতে পারতো।

স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ইসলাম একজন পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা সরকারি কোনো তহবিল থেকে যদি পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, তবেই এই অসহায় মা ও তিন মেয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষা পাবে।

কাওছার আল হাবীব/এদিন

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.