নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ গোলাহাট কবরস্থান রোডে দীর্ঘদিনের ড্রেন সমস্যায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ড্রেনের পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসায় শুধু সাধারণ চলাচলই নয়, জানাজা ও কবরস্থানে যাওয়া মুসল্লিদেরও পড়তে হচ্ছে মারাত্মক দুর্ভোগে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন গোলাহাট এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলাহাট কবরস্থান রোড সৈয়দপুর শহরের অন্যতম ব্যস্ততম একটি সড়ক। প্রতিদিন শত শত মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার হাজারো মুসল্লি কবর জিয়ারতের উদ্দেশে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ড্রেনের পানি রাস্তায় উঠে গিয়ে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।এতে রাস্তায় চলাচল প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তাসলিম উদ্দিন (৭৫), সেহনাজ বেগম (৪৫), রাজিয়া সুলতানাসহ (৫৬) অন্যান্য বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তাটার গুরুত্ব কর্তৃপক্ষ বুঝতেই চায় না। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে মানুষজন কবরস্থানে যায়। কিন্তু ড্রেনের পানির ওপর দিয়ে যাতায়াত কতটা কষ্টকর, সেটা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না। এখন তো ড্রেনের পানি আর ময়লা পোকামাকড় আমাদের ঘরেও ঢুকে পড়ছে।
এলাকাবাসী নিসার, রকি, সানজিদা, ফালিয়া বাবু, ইমতিয়াজসহ আন্দোলনে উপস্থিত আরও অনেকে জানান, সৈয়দপুরের অন্যান্য এলাকায় পানি না থাকলেও গোলাহাট কবরস্থান রোড প্রায় সারা বছরই ড্রেনের পানিতে তলিয়ে থাকে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষজনও দুর্ভোগে পড়ছেন। বাধ্য হয়েই তারা নিজেদের ন্যায্য দাবিতে সড়ক অবরোধে নামেন।
বিক্ষোভ চলাকালে নারী-পুরুষ-শিশুসহ শতাধিক মানুষ রাস্তায় বসে পড়েন। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেনের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসে। তারা দ্রুত ড্রেনের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নতুন করে ড্রেন নির্মাণের দাবি জানান।
পরবর্তীতে সৈয়দপুর পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় সাবেক কাউন্সিলর এরশাদ হোসেন পাপ্পু এবং ২নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর কর্মকর্তা সুজন শাহ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। তারা দ্রুত ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু এবং নিয়মিত পরিষ্কারের আশ্বাস দিলে প্রায় তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোলাহাট কবরস্থান রোডের বড় ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে আছে। বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের ওপর দোকান ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে, যা পানির প্রবাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে ড্রেনের পানি প্রায়ই উপচে রাস্তায় উঠে আসছে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই ড্রেন নির্মানের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









