সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় সতর্কতা জারি করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে দ্রুত টিকা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর নেছারাবাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হামের সাধারণ উপসর্গ হিসেবে তীব্র জ্বর ও শরীরজুড়ে লালচে দাগ (র্যাশ) দেখা যায়। কোনো শিশুর মধ্যে এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এ কর্মকর্তা জানায়, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ হলেও এর প্রতিরোধে কার্যকর টিকা রয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের হামের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করলে এ রোগ সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। হামের টিকা দুই ডোজে দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ থেকে ১৮ মাস বয়সে।
এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ শিশুদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার এবং স্কুল থেকে সাময়িক ছুটি নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ডা. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার যেমন কলিজা, ডিম, দুধ, গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক, পাকা পেঁপে, আমসহ বিভিন্ন রঙিন শাকসবজি খাওয়ানো প্রয়োজন।
তিনি জানান, নেছারাবাদ উপজেলায় বর্তমানে হামের টিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









