সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি তেলের অপব্যবহার রোধে দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলায় কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। হেলমেট, যানবাহনের বৈধ রেজিস্ট্রেশন এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো মোটরসাইকেল বা যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে না।
বুধবার (১ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন জ্বালানি তেল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, এ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক ব্যানার টানানো হয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নির্দেশনাগুলো প্রচার করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি তেলের অপব্যবহার রোধ ও মজুদ, সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, আইন মেনে চলতে চালকদের উদ্বুদ্ধ করা এবং নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ যানচলাচল নিশ্চিত করা। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সকল ফিলিং স্টেশনকে নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
তবে এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ বিষয়ে মাহবুব রহমান আঙ্গুর বলেন, “দেখা যাবে রাতের আঁধারে পাম্পগুলো থেকে তেল উধাও হয় কীভাবে।”
ক্ষোভ প্রকাশ করে কামরুল হাসান বলেন, “৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও তেল পাইনি। আর কত নিয়ম-কানুন মানতে হবে?”
অন্যদিকে রেজাউল করিম, সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি তেল মজুদ রোধে সহায়ক হবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে এবং দুর্ঘটনা কমাতে ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করছি জ্বালানি তেলের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি তেল ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবসময় বৈধ কাগজপত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ সড়ক নিরাপত্তা ও আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









