সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত পাঁচ বছর ধরে শতকোটি টাকার জীবন রক্ষাকারী আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও শয্যা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। পর্যাপ্ত জনবল ও ওষুধের অভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি জীবন রক্ষাকারী আইসিইউ এবং এনআইসিইউ ইউনিট। ফলে জেলার সংকটাপন্ন রোগী ও নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এখনো ছুটতে হচ্ছে বগুড়া বা রাজধানী ঢাকায়।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ৮৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালটি ২০২১ সালে সেবা কার্যক্রম শুরু করলেও অনেক বিভাগ আজও পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হয়নি। আধুনিক ভেন্টিলেটরসহ চার শয্যার আইসিইউ ইউনিটটি প্রস্তুত থাকলেও পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে তা তালাবদ্ধ। ফলে প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের এসব যন্ত্রাংশের পাশাপাশি কম্পিউটার ও অন্যান্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ এখন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে। একইভাবে বন্ধ রয়েছে নবজাতকদের এনআইসিইউ ইউনিটও।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগীদের জন্য সিসিইউ বিভাগ চালু করা হলেও গত ছয় মাস ধরে সেখানকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বিকল হয়ে আছে। হাড়ের অস্ত্রোপচারের জন্য চার কোটি টাকা মূল্যের আধুনিক ‘সিআরএম’ (ক্লোজড ম্যানুয়াল রিডাকশন) যন্ত্র থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় তা অচল। চক্ষু বিভাগে কয়েক কোটি টাকার অত্যাধুনিক ল্যাসিকস যন্ত্র থাকলেও তা ব্যবহারের কেউ নেই। এমনকি ৪৫ লাখ টাকার ম্যামোগ্রাফি যন্ত্রটিও দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ।
সূত্র আরও জানায়, আধুনিক এনজিওগ্রাম যন্ত্র স্থাপনের জন্য প্রায় সাত কোটি টাকা খরচ করা হলেও দক্ষ জনবলের অভাবে তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমআরআই মেশিনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ১৬ কোটি টাকা জমা থাকলেও আজও তা হাসপাতালে আসেনি। চালু হয়নি ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার ও মানসিক রোগ বিভাগ।
কামারখন্দ থেকে আসা সিসিইউতে ভর্তি হাসনা বেগমের (৫৫) মেয়ে হাফসা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসক এনজিওগ্রাম করতে বলেছেন। হাসপাতালে মেশিন আছে কিন্তু বন্ধ। বাইরে পরীক্ষা করাতে ২৫-৩০ হাজার টাকা লাগবে, যা আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।
জনবল সংকটের চিত্র আরও ভয়াবহ। জানা গেছে, হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রাথমিকভাবে ৭৫ জন সহকারী রেজিস্ট্রারের পদের বিপরীতে বর্তমানে আছেন ৫৮ জন। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৭৬টি পদের মধ্যে ৪৭টি শূন্য। ১৮৩ জন চিকিৎসক ও ৭৩ জন দক্ষ জনবলের একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায়।
হাসপাতালের উপ-সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ জানান, অনেক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলেও লোকবল ও ওষুধের অভাবে সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না। আইসিইউ ও এনআইসিইউ শুরু থেকেই বন্ধ রয়েছে। কিছু চিকিৎসক অনিয়মিত, তাদের নিয়মিত করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক এটিএম নুরুজ্জামান বলেন, অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল করে আমরা সেবা দিচ্ছি। তবে আইসিইউ ও এনআইসিইউসহ বেশ কিছু ইউনিট জনবল সংকটে চালু করা যাচ্ছে না। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









