কিশোরগঞ্জে মো. বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরেক বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম শহীদের বিরুদ্ধে।
সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের কাটাবাড়িয়া এলাকায় মঙ্গলবার এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত বাবুল মিয়া লতিবাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) হাদিস মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বাবুল মিয়ার বাবা হাদিস মিয়া কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লতিবাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন মো. কালাম (৩৫), মো. শাহীন (২৫), মো. শামীম মিয়া (২৫), মো. নাজমুল ও মো. আবু হান্নান (৩২)। তারা সবাই লতিবাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মিয়া কাটাবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসের পাশে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন। বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম শহীদের নির্দেশে বিভিন্ন সময় আব্দুল হাকিম (৩২) নামের এক যুবক বাবুল মিয়ার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা না দেওয়ায় বাবুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে জোরপূর্বক টাকা নিয়ে যান তিনি।
এ বিষয়ে গত ২৮ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন বাবুল মিয়া। ওই মামলায় হাকিম বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। মামলার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রেস্তোরাঁয় হামলা চালান। তারা বাবুল মিয়াকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত রাইস মিলের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে রামদা ও লোহার রড দিয়ে বাবুলের হাত-পায়ে এলোপাতাড়ি কোপানো ও পেটানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় বাবুলকে উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আহত বাবুল মিয়ার দুই হাত ভাঙাসহ শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আহত যুবদল নেতা বাবুল মিয়া বলেন, ‘শহীদ চেয়ারম্যান কথা বলবে বলে আমাকে ডেকে নিয়ে একটি মোড়ে আটকায়। সেখানে শহীদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে ও উপস্থিতিতে ২০-২৫ জন মিলে আমাকে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। পাসপোর্ট অফিসের সামনে ওরা ২০-২৫ জন মিলে চাঁদাবাজি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। কিছুদিন আগে ওরা আমার দোকান থেকে টাকা নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় আমি থানায় মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর এই হামলা চালিয়েছে। তারা প্রত্যেক দোকানদারের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেয়।’
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে শহীদুল ইসলাম শহীদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সৈয়দ শাহ আলম বলেন, ‘বাবুলকে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখতে চাই। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই মামলা নথিভুক্ত হবে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









