ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা দেশেন পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থান হিসেবে গড়ে ওঠেছে। এটি স্থানীয়ভাবে 'পেঁয়াজের ভান্ডার' অঞ্চল। ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে শীর্ষ এই চাষাবাদ। শৈলকুপায় প্রতি বছর হাজার-হাজার হেক্টর জমিতে উন্নত মানের পেঁয়াজ ও মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর উপজেলায় ১২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল ১২ হাজার ৩১ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর ৮০৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ বেড়েছে।
পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ এলাকা ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজের বাজারদর কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মুড়িকাটা পেঁয়াজের সঙ্গে আগাম নতুন পেঁয়াজ বাজারে ওঠায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম কমে গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাজারে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ প্রতি মণ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং দেশী পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কেউ কেউ বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির সম্ভাবনার গুজবে দাম কমেছে। আবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজের পাশাপাশি নতুন আগাম পেঁয়াজ বাজারে ওঠায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। বাজারে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণ মুড়িকাটা পেঁয়াজের সঙ্গে নতুন আগাম পেঁয়াজও দেখা যাচ্ছে। দাম কম থাকায় ক্রেতারা খুশি মনে পেঁয়াজ কিনছেন, তবে এতে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। অভিযোগ রয়েছে, ফরিদপুরের অসাধু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতি কেজি সুখসাগর পেয়াজের বীজ শৈলকুপার অনেক কৃষক ক্রয় করেছিলেন। পেঁয়াজ রোপন করে উৎপাদন সন্তোষজনক হলেও প্রতারিত হয়েছেন তারা।
৩১ মার্চ মঙ্গলবার শৈলকুপা বাজারে প্রতিমণ পেয়াজ তারা ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করে হতাশা প্রকাশ করেন। আমলগীর হোসেন জানান, 'পেঁয়াজের বীজ বিক্রেতা তাদেরকে সুখসাগর পেঁয়াজের বীজ বলে অন্য জাতের বীজ দিয়েছিলেন। উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে এ জাতের পেঁয়াজের চাহিদা না থাকায় পানির দরে তাদের পেয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। কয়েকজন প্রতারিত কৃষক জানালেন বাজারে উন্নত জাতের পেয়াজ ৭০০-৮০০০ টাকা মণ হলেও এ পেঁয়াজ তারা ২৫০ - ৩০০ টাকা মন দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এক বিঘা জমিতে ১৬০ মণ পেয়াজ উৎপাদন হলেও এ পেয়াজ সংরক্ষণযোগ্য নয়। যেকারণে জমি থেকে ফসল তুলেই বাজারে নিয়ে আসছেন। বাজারে চাহিদা না থাকায় ২৫০ টাকা মন দরে বিক্রি করে তারা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। প্রতি বিঘা জমি চাষ করে ৪০-৫০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল মিয়া জানালেন, 'এটা নাসিক এন ৫৩ জাতের পেয়াজ। অবৈধ ডিলারের কাছ থেকে বীজ কিনে তারা প্রতারিত হয়েছেন। তিনি জানান, প্রকৃত ডিলারের কাছ থেকে বীজ কিনলে তাদের এ ক্ষতি হতো না। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দেন এ পেয়াজ সংরক্ষণ করতে হলে গাছসহ শুকিয়ে রাখতে হবে।'
পৌর বাজারের আড়তদার মুক্তার মুন্সী জানান, 'বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সঙ্গে নতুন পেঁয়াজের আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। ফলে ক্রেতারা বেশি করে পেঁয়াজ কিনছেন। তবে ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ ওঠা শুরু হলে দাম আরও কমতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।'
পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, 'মুড়িকাটা ও নতুন পেঁয়াজের প্রচুর সরবরাহ থাকায় বাজারে দাম কমেছে।' এতে কৃষকরা লোকসানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
খুচরা ব্যবসায়ী শাহীন বলেন, 'পাইকারি বাজার থেকে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। খুচরা বাজারে ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। আমরা খুব সামান্য লাভে বিক্রি করছি। বাজার এমন থাকলে কৃষকরা চরম লোকসানে পড়বেন।'
পৌর বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা শিক্ষক আফরোজ আল মামুন বলেন, 'বাজারে পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় ইচ্ছেমতো কিনতে পারছি। তবে এতে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।'
উপজেলার খালফলিয়া গ্রামের কৃষক বিমল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, 'আমি সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় আমরা লোকসানে পড়েছি।'
শৈলকুপা উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, 'সারের দাম বেশী, শ্রমিকের মুজুরী বেশী, বাজার পরিস্থিতি এমন থাকলে অনেক কৃষক তাদের সহায়-সম্বল হারাবেন।'
শৈলকুপা বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সবুর খান বলেন, 'এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় হাট সপ্তাহে দুদিন বাজার বসে। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীগন এসে নিরিবিলি পেঁয়াজ কিনে। আমরা চেষ্টা করি বাজারের পরিবেশ ঠিক রাখতে।'
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান খান জানান, 'চলতি বছর পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের পাশাপাশি নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনে বাজারদর কিছুটা বাড়তে পারে। না হলে কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন।'
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, ফরিদপুরের অসাধু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতি কেজি সুখসাগর পেয়াজের বীজ কিনেছিলেন শৈলকুপার অনেক কৃষক। পেয়াজ রোপন করে উৎপাদন সন্তোষজনক হলেও প্রতারিত হয়েছেন তারা। গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার শৈলকুপা বাজারে প্রতিমন পেঁয়াজ তারা ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করে হতাশা প্রকাশ করেন। তারা জানান পেয়াজের বীজ বিক্রেতা তাদেরকে সুখসাগর পেয়াজের বীজ বলে অন্য জাতের বীজ দিয়েছিলেন। উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে এ জাতের পেয়াজের চাহিদা না থাকায় পানির দরে তাদের পেয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। কয়েকজন প্রতারিত কৃষক জানালেন, 'বাজারে উন্নত জাতের পেয়াজ ৭০০-৮০০ টাকা মন হলেও এ পেয়াজ তারা ২৫০ - ৩০০ টাকা মন দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এক বিঘা জমিতে ১৬০ মন পেয়াজ উৎপাদন হলেও এ পেয়াজ সংরক্ষণযোগ্য নয়। যেকারণে জমি থেকে ফসল তুলেই বাজারে নিয়ে আসছেন। বাজারে চাহিদা না থাকায় ২৫০ টাকা মন দরে বিক্রি করে তারা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। প্রতি বিঘা জমি চাষ করে ৪০-৫০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল মিয়া জানালেন, 'এটা নাসিক এন ৫৩ জাতের পেঁয়াজ। অবৈধ ডিলারের কাছ থেকে বীজ কিনে তারা প্রতারিত হয়েছেন। তিনি জানান প্রকৃত ডিলারের কাছ থেকে বীজ কিনলে তাদের এ ক্ষতি হতো না। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দেন এ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে হলে গাছসহ শুকিয়ে রাখতে হবে।'


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









