ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হয়েছে জেলা প্রশাসন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বরিশালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল আলম সুমন।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আশপাশে জমে থাকা পানির উৎস চিহ্নিত করা হয়। এসব স্থানে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সরেজমিন পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। আমরা যদি সবাই সচেতন হই, তাহলে ডেঙ্গুকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক সংস্থার কাজ নয়। এটি একটি সমন্বিত সামাজিক দায়িত্ব। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। নিজের বাড়ি, অফিস, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, সব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোথাও যদি অবহেলার কারণে এডিস মশার প্রজননস্থল পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এই কার্যক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম নিয়মিত চালানো হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর। তাই জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









