সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে জলমহাল ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “যারা বিগত দিনে সাধারণ মানুষের আহার কেড়ে নিয়েছিল এবং প্রকৃত জেলেদের বঞ্চিত করে প্রভাবশালী অ-মৎস্যজীবীরা জলমহাল ইজারা নিয়েছিল, তাদের দিন শেষ। এখন থেকে জলমহাল হবে কেবল তাদেরই, যারা হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মাধ্যমে হাওরে মাছ ধরার নির্দেশনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।’
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে ‘সরকারি জলমহাল আইন ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্তকরণ শীর্ষক এক বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আয়োজন ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
ভূমিমন্ত্রী জানান, সরকার ঘরে বসে নয় বরং হাওরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় এসে তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি জনবান্ধব আইন করতে চায়। তিনি বলেন, “আমরা যে খসড়া প্রণয়ন করেছি, তার বাইরেও আপনাদের (জেলেদের) মূল্যবান পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে যাতে একটি সুন্দর ও কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা যায়।”
কর্মশালায় বক্তারা বর্তমান ইজারা পদ্ধতির নানা অসংগতি তুলে ধরেন। বিশেষ করে প্রভাবশালী মহলের দাপটে প্রকৃত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিগুলো যে কোণঠাসা হয়ে পড়ে, সেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়। নতুন আইনে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইজারা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন (সুনামগঞ্জ-৫), কয়ছর এম আহমেদ (সুনামগঞ্জ-৩), অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম (সুনামগঞ্জ-৪) এবং কামরুজ্জামান কামরুল (সুনামগঞ্জ-১)।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ভূমি সংস্কার আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাউদ্দিন নাগরী এবং সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মোহাম্মদ রেজা উন নবী। কর্মশালায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রকৃত জেলে ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দাবির কথা মন্ত্রীর সামনে সরাসরি তুলে ধরেন।
কর্মশালা শেষে ভূমিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস প্রদান করেন।
সুনামগঞ্জের এই কর্মশালাটি কেবল একটি আলোচনা সভা নয় বরং হাওরপাড়ের প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘সরকারি জলমহাল আইন ২০২৬’ চূড়ান্ত হলে তা মৎস্য খাতে প্রকৃত অংশীজনদের ক্ষমতায়ন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









