সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দীর্ঘদিন পলিথিনের তৈরি জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসহায় সাইফুল ইসলাম।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে তাড়াশ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পলিথিন ও গাছের ডাল দিয়ে তৈরি মাত্র ৪ থেকে ৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের একটি ছোট ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি ওই এলাকার মৃত ছবের আলীর ছেলে।
অভাব-অনটনের তাড়নায় কয়েক বছর আগে স্ত্রীও ছেড়ে চলে যান। তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে বসবাস করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই ছেলের চিকিৎসা করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সন্তানের চিকিৎসা করাতে প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। বয়সের ভারে এখন আর তেমন কাজ করতে পারেন না সাইফুল ইসলাম। জীবিকার তাগিদে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের জলাশয়ে মাছ ধরেই কোনোভাবে তার সংসার চলে। তার একমাত্র সম্পদ বলতে পলি দিয়ে মোড়ানো ছোট্ট একটি টুং ঘর ছাড়া আর কিছু নেই।
সম্প্রতি কয়েক দিন আগে হওয়া ঝড়ে তার ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন হামাগুড়ি দিয়ে সে ঘরে প্রবেশ করতে হচ্ছে তাকে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে কথা বলেন সাইফুল ইসলাম এদিনকে বলেন, “কী বলবো দুঃখের কথা, গরীব হওয়ায় দুটি সন্তান রেখে ঘরের বউটাও চলে গেছে। সরকারি একটু জায়গা থাকলেও ঘর তৈরি করার সামর্থ্য টুকুও নাই। দিনমুজুরের কাজটাও এখন আর করতে পারছি না, শরীরে শক্তি নাই। বৃদ্ধ একটা মা আছে বাড়ি বাড়ি চেয়ে আনলে খাওয়া হয় আমাদের।”
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি আমি অবগত না খোঁজ নিয়ে অবশ্যই আমরা তাকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবো। সে যদি লিখিত আবেদন করেন আমরা সরকারি বরাদ্দকৃত টিন দিয়ে ঘর তৈরিতে সহযোগিতা করবো।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









