গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মামলার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামিকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এদিকে আসামিরা মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য মামলার বাদীসহ ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের পিয়ারাপুর মৌজার ইসলামপুর বাজারে রুহুল আমিন মন্ডলের ৪০ শতক জমির মধ্যে পাকা সড়কের পার্শ্বে ২ শতক জমিতে আসামিগণ বিভিন্ন সময় খড়, গোবর, বালি, ময়লা-আবর্জনা ফেলে। এ নিয়ে তাদের বেশ কয়েকদিন বলার পরেও তারা ময়লা অপসারণে কালক্ষেপণ করে। ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ২৩ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে রুহুল আমিনের ছেলে আরিফ আল-মাহমুদ মোবাইলে কল করে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সাজেদুল ইসলাম হীরককে জমি থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করতে বলে। পরে রাত পৌনে নয়টার দিকে সাজেদুল ইসলাম হীরক, আব্দুল জলিল সরকার, জয়নুল ইসলাম সরকার, আব্দুল কুদ্দুস সরকার, আশেফা খাতুনসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন ব্যক্তি মিলে উক্ত জমিতে এসে আল-মাহমুদকে গালিগালাজ ও মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত, চাকু দিয়ে রক্তাক্ত ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে জমিতে ফেলে রেখে চলে যায়।
এ ঘটনায় আরিফ আল-মাহমুদের পিতা রুহুল আমিন মন্ডল বাদী হয়ে গত ৩০ মার্চ গোবিন্দগঞ্জ থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আরও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
মামলার বাদী রুহুল আমিন মন্ডল জানান, মামলার পর আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তার পরিবারের লোকজনকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এসব ঘটনা পুলিশকে অবহিত করলেও তারা আসামিদের গ্রেফতারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) আব্দুস সবুর জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। তার দাবি, সব আসামি পলাতক।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









