প্রায় তিন বছর আগে ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ী যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় শিশু ইদ্রিস মিয়া। এরপর থেকে তার পরিবার সন্তানকে খুঁজতে থাকে। এভাবে কেটে যায় তিন বছর। অন্যদিকে পথ হারিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ১১ বছর বয়সি ইদ্রিস বিভিন্ন স্থানে কাজ করে বেড়াত। কলকারখানাসহ নানা জায়গায় কাজ করত এবং সেখানেই থাকত। সে নিজের নাম ও বাবার নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারত না। তিন বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ইদ্রিসকে শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে তার বাবার বুকে ফিরিয়ে দিয়েছে শিবচর থানা পুলিশ। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুলিশ এ তথ্য জানায়।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে জেলার শিবচর উপজেলার উতরাইল এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করছিল ইদ্রিস নামের শিশুটি। নিজের নাম ও পিতার নাম ছাড়া অন্য কিছু বলতে না পারায় স্থানীয় যুবকেরা তাকে শিবচর থানায় পৌঁছে দেয়। পরে শিবচর থানা পুলিশ শিশুটির পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ইদ্রিসের পরিচয় জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রচার করে সন্ধান চাওয়া হয়।
শিবচর থানা পুলিশ জানায়, “শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক। হারিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াত। হাট-বাজার ও কলকারখানায় কাজ করত। এভাবেই তিন বছর কেটে যায়। নিজের এলাকার নাম-ঠিকানা না জানায় পৌঁছাতে পারেনি বাড়িতে। রাস্তাঘাটও চিনত না। শিশুটির পরিচয় শনাক্তের এ প্রচেষ্টার ফলে খবর পৌঁছে যায় ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা সজিব মিয়ার কাছে। পরে তিনি শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং স্বজনদের নিয়ে দ্রুত শিবচরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। শনিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে শিবচর থানায় পৌঁছে সজিব মিয়া তার ছেলেকে দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পর বাবা-ছেলের এই মিলনমুহূর্তে উপস্থিত সবার চোখে জল চলে আসে।”
পুলিশ আরও জানায়, “প্রায় তিন বছর আগে ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীর আনন্দবাজার এলাকায় যাওয়ার পথে ইদ্রিস মিয়া নিখোঁজ হয়। এরপর থেকে তার পরিবার তাকে খুঁজে ফিরছিল। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ইদ্রিস মিয়াকে তার পিতা সজিব মিয়ার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।”
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে পুলিশ সর্বদা সক্রিয় থাকবে।”
এদিকে উদ্ধার হওয়া শিশুর পরিবার শিবচর থানা পুলিশসহ মাদারীপুর জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









