বরিশালের গৌরনদীতে পেট্রোলবাহী একটি লরিতে আকস্মিক আগুন লাগার ঘটনায় অল্পের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো গেছে। চালকের অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি ও ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তে সাহসী সিদ্ধান্তে একটি ফিলিং স্টেশন বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও সম্ভাব্য বিস্ফোরণের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে গৌরনদী উপজেলার নাহার সিনেমা হল সংলগ্ন সেন্ট পিটার ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পদ্মা ডিপো থেকে পেট্রোল বোঝাই একটি লরি তেল সরবরাহের জন্য ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করে। এ সময় হঠাৎ করেই লরিটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা ফিলিং স্টেশনে থাকা বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থের কারণে বড় ধরনের বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারত।
ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে লরির চালক অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন লাগা লরিটিকে দ্রুত ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে সরিয়ে গৌরনদী–আগৈলঝাড়া সড়কের মাঝখানে নিয়ে যান। তার এ সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিং স্টেশনটি সরাসরি আগুনের কবল থেকে রক্ষা পায় এবং সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার সময় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী, আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করতে থাকে বেশ কিছু সময়।
খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের দ্রুত ও কার্যকর তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, “চালকের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতার কারণে একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তবে কী কারণে লরিটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা চালকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









