ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ ওঠেছে পিতা মো. ইউসুফ (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় অভিযুক্তকে শনিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ভোলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে অভিযুক্ত পিতা মো. ইউসুফ তার কিশোরী কন্যাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এ নির্যাতনের ফলে কিশোরীটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে ও অপরাধ গোপন করার উদ্দেশে অভিযুক্ত পিতা ভিকটিমকে জোরপূর্বক গর্ভপাত নিরোধক ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করান। এ ঘটনায় গত ৪ এপ্রিল ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দৌলতখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার আলোকে ভোলার দৌলতখান ও দুলার হাট থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক টিম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে নামে। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পিতা মো. ইউসুফকে দুলারহাট থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়াও গর্ভপাতের ফলে মৃত শিশুটি দৌলতখান থানা পুলিশ উদ্ধার এবং ধর্ষণ সংক্রান্তে আলামতসমূহ জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ইউসুফ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। আসামি মো. ইউসুফকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটি পুলিশ সুপার নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিক টিম গঠন করেন বলে জানান পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।
ভোলা জেলা পুলিশ নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই জঘন্য অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









