নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় একমাত্র চলনবিল ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তারা চলে গেলে সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি অসাধু চক্র- এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে অবস্থিত চলনবিল ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এ সময় অভিযোগ ওঠে, কিছু অসাধু ব্যক্তি সিরিয়াল না মেনে বোতল ও প্লাস্টিকের জারে করে অকটেন সংগ্রহ করতে থাকে। এতে বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি ও লোহার পাইপ নিয়ে বাইকারদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোজার ঈদের আগ থেকেই পাম্পটিতে তেলের সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র বোতল বা ঢোপে করে তেল নিয়ে তা উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে। পাশের উপজেলা তারাশ, চাটমোহর, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা থেকে আসা বাইকারদের ভিড়ও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অনেকেই ফুয়েল কার্ডের আওতায় না থাকায় কালোবাজারি তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন এবং নাটোর ফুয়েল কার্ডের আওতায় না থাকায় ঐ সকল উপজেলার বাইকাররা ভিড় জমাচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের উপস্থিতিতে তেল বিতরণ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হলেও তারা চলে গেলে অসাধু ব্যবসায়ী ও কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে সাধারণরা হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
চলনবিল ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. খবিরউদ্দিন বলেন, “আগের তুলনায় দ্বিগুণ তেল বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু এত তেল কোথায় যাচ্ছে বুঝতে পারছি না। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলেও স্থায়ী সমাধান জরুরি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “জেলাসহ গুরুদাসপুরে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ রয়েছে। কেউ মজুত বা অবৈধভাবে বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মজুতদারদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। খুব দ্রুতই তেল সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে নিয়মের মধ্যে আনা হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









