সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা ও হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে কালনী নদী। দিন দিন এই নদীটি ভয়ানক রুপ ধারন করছে। শাল্লা উপজেলা ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে শতশত পরিবার। এরই মধ্যে ভাঙন পৌঁছেছে কারও আঙিনায়, কারও বা দোরগোড়ায়। প্রতিদিন ভাঙনের ফলে অনেকের দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে নদীটি। এছাড়াও ফসলী জমি, বিদ্যালয় ও হাটবাজার বিলীন হয়ে গেছে সর্বনাশী কালনীর গর্ভে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাল্লা উপজেলার প্রতাপপুর, গ্রাম শাল্লা ও ফয়েজুল্লাহপুর এলাকায় পাউবো'র জরুরী ফান্ড থেকে নদী রক্ষা রোধ প্রকল্পের আওতায় লোক দেখানো কাজ করা হলেও কোনো উপকারে আসেনি। জিও ব্যাগের প্রতিরক্ষা এসব এলাকায় ভাঙ্গনের প্রকটতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। যার ফলে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে শাল্লা উপজেলার সাউধেরশ্রী গ্রামের পাশে ভয়ানক ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। এই ভাঙ্গনে হাওর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে ফসলী জমি নদীতে বিলীন হওয়ার পথে। সাউধেরশ্রী গ্রামবাসীর অভিযোগ পাউবো সহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থার আশ্বাস মিলেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে।
খোঁজ নিয়ে আরে জানা গেছে, শাল্লা উপজেলার ফয়েজুল্লাহপুর, বিষ্ণুপুর, প্রতাপপুর, মেদা মুসাপুর ও গ্রাম শাল্লায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটাও কয়েকটি স্কুল মাদ্রাসা কালনীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রতিদিন ভাঙছে পাড়। এতে পিরোজপুর, মাহমুদপুর, নদীপুর, পাহাড়পুরের কয়েকশ পরিবার ভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। নদীর এই ভাঙ্গনে এই দুই উপজেলায় বাদ পড়েনি রাস্তা, বাঁধ, মসজিদ, শ্মশান, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে আছে দুই উপজেলার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, ২০/২৫ বছর ধরে কালনী নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শাল্লা উপজেলার নদী তীরবর্তী ১৫/১৬ টি গ্রাম। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফয়েজুল্লাহপুর ও প্রতাপপুর গ্রাম। এই দুটি গ্রামের কয়েকশ একর জায়গা নদীতে বিলীন হয়েছে। এখনো এই ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া নতুন করে আবার সাউধেরশ্রী ও গ্রাম শাল্লায় ভয়ানক ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে।
সাউধেরশ্রী গ্রামের আশিষ সরকার জানান, কালনী নদীর ভাঙ্গনে গ্রামের একমাত্র পাঁকা রাস্তাটি বিলীন হয়ে গ্রামের দিকে চলে আসছে। এছাড়াও ফসল রক্ষা বাঁধটি ভেঙ্গে গিয়ে যেকোনো সময় ফসলী জমিগুলো নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই গ্রাম এবং ফসলী জমি রক্ষা করতে নদী ভাঙ্গন রোধ প্রকল্পের আওতায় জরুরীভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবী জানাই বর্তমান সরকারের কাছে।
শাল্লা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ - সহকারি প্রকৌশলী ওবায়দুল হক জানান, কালনী নদীর সাউধেরশ্রী এলাকার বাঁধের নিকট ভয়াবহ ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। মুলত এই এলাকাটি হবিগঞ্জের পাশে থাকায় আজমিরীগঞ্জ থেকে বাস্তবায়ন করা খুবই সহজ হবে। আমরা সুনামগঞ্জ জেলা অফিসে যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকে হবিগঞ্জ জেলা অফিস যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও ইউএনও স্যার বানিয়াচং ইউএনও স্যারের সাথে জরুরীভাবে যোগাযোগ করেছে এই ভাঙ্গন প্রতিরোধে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









