ঝিনাইদহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণের নাগরিক দাবি সাধারণ মানুষের। শহরে পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি, যার বেশিরভাগই পরিত্যক্ত রয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সংগঠক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, 'শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পর্যাপ্ত গণশৌচাগার নেই। বিশেষ করে পায়রা চত্ত্বরের মতো জনবহুল স্থানে প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও নারীদের ব্যবহারের জন্য কোনো মানসম্মত টয়লেট সুবিধা নেই। এর ফলে কেনাকাটা করতে আসা নারী, কর্মজীবী ও ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।'
বর্তমানে চালু থাকা পাবলিক টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী, অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত। নিরাপত্তাহীনতা ও মাদকাসক্তদের উপদ্রবের ভয়ে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হয় বিশেষ করে নারীদের। 'পুরো জেলা শহরে মাত্র ৩ টি পাবলিক টয়লেট বর্তমান থাকলেও তা ব্যবহার অনুপযোগী বলে দাবি করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের জেলা আহ্বায়ক রুবিনা খাতুন।'
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সদর উপজেলার উদয়পুর গ্রাম থেকে আসা একজন নারী ক্রেতা নুপুর খাতুন জানান, 'পাবলিক টয়লেটের বিড়ম্বনা এড়াতে অনেক নারীই দীর্ঘক্ষণ পানি পান করা থেকে বিরত থাকেন। যার ফলে শরীরে পানি শূণ্যতা দেখা দেওয়া ছাড়াও ইউরিন ইনফেকশন, কিডনী রোগসহ নানারকম জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। কাজেই সরকারের কাছে দাবি- অতি দ্রুতই যেন ঝিনাইদহের মূল শহরে নারীদের জন্য বিশেষভাবে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়।'
অন্যান্য যে কোনো সময়ের তুলনায় পহেলা বৈশাখ, ঈদ, পুজা-পার্বণ ঘিরে সব ধরনের বিপণি বিতানগুলোতে থাকে অতিরিক্ত ক্রেতাদের ভিড়। কিন্তু ঝিনাইদহ পৌরসভায় অধিকাংশ মার্কেটে কাস্টমারের জন্য টয়লেট না থাকায় কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
পৌর শহরে যে কয়েকটি পাবলিক টয়লেট আছে তাও মূল শহরের বাইরে হওয়ায় মূল শহরে অবস্থিত বিপণিবিতানগুলোতে আসা ক্রেতাদের পড়তে হচ্ছে নানা রকম বিড়ম্বনায়। এ ক্ষেত্রে পুরুষরা যেনতেনভাবে মুক্তি পেলেও, নারীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা নেতা শারমিন খাতুন বলেন, 'প্রতিদিন দূরবর্তী জেলা, বিভিন্ন উপজেলা ও অঞ্চল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে শহরে আগত নারীসহ আবার প্রতিদিন ঢাকা থেকে বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে শহরে টয়লেটের বন্দোবস্ত না থাকায় নারী যাত্রীরা গভীর রাতে অত্যন্ত অসহায় ও নিরুপায় হয়ে পড়েন।'
পাবলিক টয়লেট না থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে খোলা জায়গা ব্যবহার করার কারণে শহরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় পৌরসভার ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে জনভোগান্তি কমানোর হোক দাবি ভুক্তভোগী সকলের।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই দাবির স্বপক্ষে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে। এই দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বর্তমানে ঝিনাইদহের সকল গ্রাম ও শহরের জনপরিসরে পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নির্মাণের জন্য সাধারণ মানুষও এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









