নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের দীর্ঘদিনের তীব্র্র যানজট সমস্যা নিরসনে অবশেষে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কের প্রবেশমুখে স্থায়ী ডিভাইডার (বিভাজক) বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শহীদ তুলশীরাম সড়ক (দিনাজপুর রোড) এলাকায় ওই ডিভাইডারের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যা পর্যায়ক্রমে তা অন্যান্য দুরুত্বপূর্ণ সড়কেও নির্মাণ করা হবে।
জানা গেছে, এর আগে গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পরীক্ষামূলকভাবে অস্থায়ী ডিভাইডার স্থাপন করা হয়েছিল। ওই উদ্যোগের ফলে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং যানজট কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসে। অস্থায়ী ডিভাইডারের ইতিবাচক ফলাফল পর্যালোচনা করে এবার স্থায়ী ডিভাইডার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সৈয়দপুর পৌর শহরটি পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে ওঠায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। প্রায় ৩৪.৪২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই শহরের বড় একটি অংশই বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন। রেলওয়ের পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি, দোকানপাট, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কখনোই সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
প্রতিদিন আশেপাশের জেলা ও উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে সৈয়দপুর শহরে আসেন। এ কারণে যানবাহনের চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু সেই তুলনায় শহরের সড়ক সংখ্যা ও প্রশস্থ অত্যন্ত সীমিত। এর পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ী সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, যা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অফিস-আদালতে সময়মতো পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে কর্মঘণ্টা অপচয়ের পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নেমে এসেছে অস্বস্থি ও চাপ।
এই সমস্যা সমাধানে অতীতে পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগ একাধিক উদ্যোগ নিলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। পরে বিকল্প সমাধান হিসেবে ট্রাফিক বিভাগ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অস্থায়ী ডিভাইডার স্থাপন করে। তৎকালীন পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) একেএম ওহিদুন্নবীর তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। এতে ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মো. মাহফুজার আলম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অস্থায়ী ডিভাইডার বসানোর পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে রিকশা, ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল শুরু করে। যানবাহনগুলো সারিবদ্ধভাবে চলার ফলে যানজট অনেকটাই কমে আসে এবং শহরবাসী কিছুটা স্বস্থি ফিরে পান।
এই সফলতার ধারাবাহিকতায় এবার স্থায়ী ডিভাইডার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন সড়কে গর্ত খননসহ প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছিল। একটি স্টিল কোম্পানির সহায়তায় এসব ডিভাইডার স্থাপন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কে নাটোর দইঘরের সামনে প্রথম স্থায়ী ডিভাইডার বসানো হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জুলফিকার স্টিল নামের একটি রড কোম্পানির তত্ত্বাবধানে অস্থায়ী ডিভাইডার অপসারণ করে সেখানে স্থায়ী ডিভাইডার স্থাপন করা হচ্ছে। এ সময় ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. মাহফুজার আলম উপস্থিত থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করেন। পাশাপাশি কোম্পানির মার্কেটিং ব্যবস্থাপক মো. নাদিমও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. মাহফুজার আলম জানান, সীমিত জনবল নিয়ে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। অস্থায়ী ডিভাইডার বসানোর মাধ্যমে কিছুটা সুফল পাওয়া যায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এখন স্থায়ী ডিভাইডার স্থাপন করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও সড়ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, স্থায়ী ডিভাইডার স্থাপনের মাধ্যমে শহরের যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচল যেমন সহজ হবে, তেমনি পথচারীরাও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে সড়ক ব্যবহার করতে পারবেন। এ উদ্যোগ সফল করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সৈয়দপুর শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার একটি টেকসই সমাধান পাওয়া যেতে পারে এবং শহরের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









