আসন্ন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় উঠে এসেছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তানজীন চৌধুরী (লিলি)। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত আলোচিত হচ্ছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, রাজপথের সক্রিয় উপস্থিতি, সাংগঠনিক দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে সংরক্ষিত আসনের জন্য লিলি একজন শক্তিশালী দাবিদার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি হয় তানজীন চৌধুরী লিলির। তিনি হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব।
রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছেন লিলি। ২০০৭ সালের ১/১১-পরবর্তী সময়ে ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনে সম্মুখসারিতে ভূমিকা রাখতে গিয়ে দীর্ঘদিন মামলার জটিলতায় পড়েন তিনি। পরবর্তী সময়েও রাজনৈতিক কারণে একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার হন।
রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও রয়েছে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। জাতীয় ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিকস, হ্যান্ডবল ও ফুটবলে একাধিক স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক অর্জন করেছেন তিনি। ২০০৫ সালে মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের কাছ থেকে ‘শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ’ সম্মাননা লাভ করেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে ‘ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রাম’ (IVLP)-এ অংশ নেন। এছাড়া থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে নারী সংগঠনে লিলির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ এবং সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে তিনি নারী ভোটারদের মধ্যে দলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান (শহীদ) বলেন, লিলি তৃণমূলের নারীদের সংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। দল তাকে মূল্যায়ন করলে ময়মনসিংহ অঞ্চলে নারী নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে।
নিজের প্রত্যাশার বিষয়ে তানজীন চৌধুরী লিলি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন নারীদের অধিকার ও দাবি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। দল যদি আমাকে সুযোগ দেয়, তবে নারী শিক্ষা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় সম্পৃক্ততার কারণে দলের নীতিনির্ধারণী মহলেও ইতোমধ্যে নজর কেড়েছেন তানজীন চৌধুরী লিলি। ফলে সংরক্ষিত নারী আসনে চূড়ান্ত মনোনয়নের দৌড়ে তিনি এগিয়ে রয়েছেন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









