ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিণবের থেকে ফান্দাউক পর্যন্ত ১,৮০০ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি টেন্ডার হলেও একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানোর পরও ৩ বছরেও কাজ সম্পন্ন হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করলেও ৯০ শতাংশ বিল উত্তোলন করে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, মোট সাড়ে ৮ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অথচ ঠিকাদার ইতোমধ্যে ৭ কোটি ২১ লাখ টাকা বিল তুলে নিয়েছে, যা কাজের তুলনায় প্রায় ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, বাস্তবে ৩০ শতাংশ কাজও সম্পন্ন হয়নি। তবুও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ঠিকাদারকে অধিকাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ কারণে ঠিকাদার এখন আর কাজে ফিরছে না। ফলে তিনটি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ঠিকাদার খাইরুল হাসান প্রভাব খাটিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজশে অতিরিক্ত বিল উত্তোলন করেছেন। কাজের বিষয়ে কথা বললে ঠিকাদারের লোকজন হুমকি-ধমকি দেয় বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার খাইরুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা আরিফ হোসেন জানান, দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করা হবে।
নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মোমিন বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ফাইলপত্র পর্যালোচনা করতে হবে। অতিরিক্ত বিল পূর্ববর্তী প্রকৌশলীরা অনুমোদন করেছেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চাপ দেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘদিনেও সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









