কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম, এ শামিম আরজু কারাগারে পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাতসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে নিহতের ছেলে এস.এম ফুয়াদ শামীম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও আমলী আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ মামলাটি তদন্তের আদেশ দেন।
অভিযুক্তরা হলেন- কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহাবুব উল আলম হানিফ (৬২), সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা (৫৫), সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন (৫৪), সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাত (৫২), সদর হাসপাতালের সাবেক আর, এম, ও ডা. তাপস কুমার সরকার (৫০), সাবেক ভারপ্রাপ্ত জেলার আক্তারুজ্জামান (৫০), সাবেক জেল সুপার জাকির হোসেন (৫০), সাবেক কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন (৫২), সাবেক পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার কুন্ডু (৫০), সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর লিপন সরকার (৪৫), সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর কাজি মেহেদী হাসান (৪২) সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর সোহেলী আক্তার (৪০), কোর্টপাড়ার মৃত চাঁদ আলী মুক্তার আলীর ছেলে আবুল হাশেম (৭২), সাবেক কারারক্ষী লিমন হোসেন (৪২), মিরপুর উপজেলার তাঁতিবন্দ (চারমাইল বাজার বারুইপাড়া) এলাকার মৃত নেহাল মন্ডলের ছেলে তারেক নেহাল তপে (৪৮)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, এম. এ শামিম আরজু কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে কুষ্টিয়া ডিসি অফিসের ২ নং গেটের পাশে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বাদীর পিতার ও বিএনপি নেতা কর্মীদেরকে চর্তুরদিক থেকে ঘিরে ধরে এবং সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাতের নির্দেশে ১০/১৫ জন পুলিশ সদস্য অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে পুলিশের নির্যাতনে কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও বাদীর পিতাসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীরা আটক হন। পরবর্তীতে বাদীর পিতার উপর পুলিশের নির্যাতন করার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ দিন পরে মারা যান ম, এ শামিম আরজু।
নিহতের ছেলে এস. এম ফুয়াদ শামীম জানান, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কুষ্টিয়া ডিসি অফিসে শহীদদের সম্মান জানাতে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলায় তার পিতা আহত হন। পরে তাকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং সেখানে পুলিশের নির্যাতনে তার পিতাকে অসুস্থ অবস্থায় আদালতে নিয়ে যায়। পরে আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠায়। তার পিতার অবস্থা আরও আশংকাজনক দেখা দিলে হাসপাতালে নেওয়া হলে বিনা চিকিৎসায় তার পিতা মারা যান। এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবী জানান তিনি।
অপরদিকে কুষ্টিয়া জজকোর্টের এ্যাডভোকেট নুরুল কাদের বলেন, কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম, এ শামিম আরজু কারাগারে পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালের দিকে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাতসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে নিহতের ছেলে এস. এম ফুয়াদ শামীম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও আমলী আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ মামলাটি তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









