যশোরের শার্শায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদাসীন। এর ফলে উপজেলার হাজার হাজার চিকিৎসা সেবা গ্রহীতারা অপচিকিৎসার ঝুঁকিতে পড়ছে এবং প্রভাবিত হচ্ছে।
উপজেলার একাধিক বেসরকারি ক্লিনিকে অপচিকিৎসার কারণে প্রসুতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই, এমন অভিযোগ রয়েছে যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। প্রভাবশালী মহলের চাপ ও তদবিরে ভুক্তভোগী ও নিহতের স্বজনরা ন্যায়বিচার পেতে পারছেন না। ঘটনাস্থলে সাময়িক ক্লিনিক কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ দিলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিষ্ঠান পুনরায় সচল হওয়ায় যশোর সিভিল সার্জনের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যশোর সিভিল সার্জন অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, উপজেলার অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিধি সম্মত কাগজপত্র নেই। কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র নবায়নের তারিখ বছরের পর বছর বাকি থাকলেও তারা চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছে। যশোর সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর “উন্নয়ন” এনজিও পরিচালিত বেনাপোল বাজারস্থ নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা ইসলাম ক্লিনিক পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন, তবে আজও কেন্দ্রটির চিকিৎসা ব্যবস্থা সুদৃঢ় হয়নি।
অভিজ্ঞ ও পেশাদার ডাক্তার ছাড়াই প্রসূতির ডেলিভারি এবং সিজার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কোনো পদক্ষেপ নেননি।
উপজেলার নাভারন এলাকার মুক্তি ক্লিনিক, পল্লী ক্লিনিক, বিসমিল্লাহ ক্লিনিক, বুরুজবাগান ক্লিনিক, বাগআঁচড়ার জনসেবা ক্লিনিক, আল-মদিনা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাগআঁচড়া নার্সিং হোম, বেনাপোলের মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেনাপোল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে এলাকাবাসির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও সিলগালা করলেও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে যশোর সিভিল সার্জন অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় ক্লিনিক পুনরায় সচল হয়েছে এবং চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা চলছে।
উপজেলা জুড়ে ৬০টিরও বেশি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন কয়েকশত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের আফিল ডিগ্রী কলেজ সড়কে অবস্থিত ডাঃ মমতাজ মজিদের বাসভবনের পুরোটাই জুড়ে চলছে অবৈধ ক্লিনিক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়াই নোংড়া পরিবেশে ক্লিনিক কার্যক্রম ও অপারেশন পরিচালনা হচ্ছে। এতে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি, ২৬ইং তারিখে একাধিক পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলেও যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে ভুইফোঁড় প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উৎসাহিত হচ্ছে বেআইনী চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় সারা দেশের ন্যায় বেনাপোল পৌরসভা এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দ্রুতই উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তার সহায়তায় বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার সুশীল সমাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়ে দাবি করছে, বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কার্যক্রম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হোক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









