গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের হায়েতখারচালা গ্রামে দেখা মিলেছে ব্যতিক্রমধর্মী এক মরিচখেতের। যেখানে প্রতিটি গাছে ঝুলছে ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চি লম্বা মরিচ—যা প্রথম দেখাতেই যে কাউকে বিস্মিত করে।
এই মরিচের চাষ করেছেন চীনা উদ্যোক্তা ছেন জিয়েন গাও। তাঁর আড়াই বিঘা জমিজুড়ে গড়ে উঠেছে এই মরিচখেত। দীর্ঘাকৃতির এই মরিচের নাম ‘চাপাই-কোপাই’, যা ইন্দোনেশিয়ায় বেশ জনপ্রিয় এবং চায়নিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে লাগানো প্রতিটি গাছে প্রচুর মরিচ ধরেছে। একটি গাছেই দুই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত মরিচ উৎপাদন হচ্ছে। মরিচের ওজন বেশি হওয়ায় গাছগুলোকে সমর্থন দিতে ছোট ছোট খুঁটি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক মরিচ পেকে লাল রং ধারণ করেছে এবং সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মরিচখেতের পরিচর্যাকারী শ্রমিক আরিফ হোসেন জানান, চীনা উদ্যোক্তা তাঁর দেশের বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এখানে চাষ করে থাকেন। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে এই চাপাই-কোপাই মরিচের। তিনি বলেন, “ছোট জায়গা থেকেও ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিনই অনেক মানুষ এই খেত দেখতে আসেন।
উদ্যোক্তা ছেন জিয়েন গাও বলেন, “বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এখানে শাকসবজি চাষ করে আমরা লাভবান হচ্ছি। উৎপাদিত পণ্য আমরা খোলা বাজারে বিক্রি না করে নিজেদের রেস্তোরাঁয় ব্যবহার করি।” তিনি আরও জানান, আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হলেও ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
জমির মালিক আতিকুর রহমান প্রধান বলেন, চীনা উদ্যোক্তা ইতোমধ্যে আরও জমি লিজ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা জানান, এই মরিচটি ক্যাপসিকামের মতো স্বাদযুক্ত এবং চায়নিজ রেস্তোরাঁয় এর চাহিদা বেশি থাকায় এটি একটি সম্ভাবনাময় লাভজনক ফসল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষিকে কারিগরি সহায়তা ও রোগবালাই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, এই ব্যতিক্রমী মরিচ চাষ এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









