জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপনির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া ভিপিসহ জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী অভিযোগ করে জানান, বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি কেন্দ্র থেকে মারধর করে এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে। আগে থেকে অভিযোগের পরেও প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এখানে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটারের জন্য ১২৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান (ইনকোয়ারি) কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিমে ২০০-এর বেশি সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১১৫০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতিতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
উল্লেখ্য, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাচনি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









