শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা ৭ হাজার লিটার ডিজেলের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ লিটার রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে নিলামে বিক্রি ও আনলোডের সময় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত ৩১ মার্চ রাত ১০টার দিকে উপজেলার ভোজেশ্বর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করার উদ্দেশ্যে আনা ৭ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নড়িয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকী দাস জানান, বরিশাল থেকে শরীয়তপুরে অবৈধভাবে আনা এই তেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত তেল নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে জব্দকৃত তেল নড়িয়া থানায় সংরক্ষণ করা হয়। এরপর ২ এপ্রিল বিকেলে নিলামের মাধ্যমে শরীয়তপুরের মনোহর মোড় এলাকার মেসার্স আ. জলিল ফিলিং স্টেশন ৭ লাখ টাকায় তেলটি ক্রয় করে। তবে লরি থেকে তেল আনলোড করতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে মাত্র ৪৮০০ লিটার ডিজেল। বাকি প্রায় ২২০০ লিটার ডিজেলের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে ঘাটতি অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দেওয়া হয়।
প্রশাসনের জিম্মায় থাকা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ তেল কীভাবে উধাও হলো— তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাস্থলের অদূরেই একটি তেলের ডিপো থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে তেল পরিমাপ করা হয়নি। এমনকি উধাও হওয়া তেলের একটি অংশ স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকী দাস বলেন, অভিযানের সময় যে পরিমাণ তেল পাওয়া গেছে, তাই নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি খুঁজে বের করা আমার দায়িত্ব নয়।
অন্যদিকে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, ইউএনও কার্যালয়ে জায়গা না থাকায় তেলবাহী লরিটি থানায় রাখা হয়েছিল। তবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়নি। লরিতে কী পরিমাণ তেল ছিল, সে বিষয়েও আমি অবগত নই।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ভোজেশ্বর বাজার থেকে ৭ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু নিলামের সময় ২২০০ লিটার কম পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









