কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম ইউনিয়নে কবরস্থানের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আব্দুল হালিম ও ফিরোজ আলীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে ইউনিয়নের বরইচারা ও সাতপাখিয়া গ্রামের মানুষের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপগ্রাম ইউনিয়নের ওই কবরস্থানের জায়গার উন্নয়ন ও মাটি ভরাটের জন্য বেশ কিছু গাছ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় কবরস্থান কমিটি। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত ও গাছ কাটার প্রক্রিয়া নিয়ে সাতপাখিয়া ও বরইচারা গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শুক্রবার বরইচারা গ্রামের লোকজন গাছ কাটতে গেলে সাতপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দারা তাতে বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত আব্দুল হালিম ও ফিরোজ আলীসহ অন্তত ২০ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফিরোজ আলী জানান, “আমরা কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য কাজ করছিলাম। হঠাৎ অন্য পক্ষ এসে কোনো কিছু না বলেই হামলা চালায়। তারা বাঁশের লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর আঘাত করে।”
অন্যদিকে, আব্দুল হালিম নামে আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ কবরস্থানের সম্পদ নিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে, যার জেরে এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
খবর পেয়ে খোকসা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, কবরস্থানের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









