পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা না গেলে আগামী এক দশকের মধ্যে সিলেট শহরের অনেক নিচু এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেট সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “একটি শহরকে প্রাণবন্ত বা ‘ভাইব্রেন্ট’ করে তুলতে হলে উন্নত অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বিস্তার—এই দুটি শর্ত পূরণ অপরিহার্য। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের এই শহরে পরিকল্পিত উন্নয়নের সুযোগ থাকলেও অপরিকল্পিত বসতি দ্রুত বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।”
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “নির্দিষ্ট সংখ্যক আবাসনের জন্য পরিকল্পিত এলাকায় অতিরিক্ত ঘনবসতি গড়ে উঠলে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার কাঠামো ভেঙে পড়বে।”
জলাবদ্ধতার সমস্যাকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “একদিনের বৃষ্টির পানি যদি ১৫ দিনেও না নামে, তা টেকসই পরিস্থিতি নয়। এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিকল্পিত সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।”
শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, শহরের বাইরে শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, সিলেটে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বিকাশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সহজ হবে।
নগরে উন্মুক্ত স্থান ও বিনোদন সুবিধার ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শহরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হতে পারে।”
এ সময় উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয়, সময়সীমা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তথ্য প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা উচিত।” পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে অপচয় ও অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
এ সভায় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ উল্লাহ, প্রধান এসেসর মো. আব্দুল বাছিত, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ন ম মনছুফ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান, জনসংযোগ কর্মকর্তা (অ.দা.) নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, কর কর্মকর্তা মো. জামিলুর রহমান, লাইসেন্স কর্মকর্তা রুবেল আহমদ, মো. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









