কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় কথিত ‘পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামিমকে (৫০) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হামলায় শামীমের আরও দুই অনুসারী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে দৌলতপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত ওই আস্তানায় হামলা করা হয়। নিহত শামিম ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধর্ম নিয়ে কটূক্তির জেরে এ হামলা হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন, এমন অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে শামিমসহ কয়েকজন আহত হন। পুলিশ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেছেন, “আহত অবস্থায় কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। অন্যদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।”
দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, তারা ঘটনাস্থলে আছেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা তারা দেখেছেন। ভিডিওটি পুরনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিওটি দেখে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শামিমের আস্তানায় হামলা চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









