'আমাকে প্রতিদিন কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ যেতে হয়। বাস বা ইজিবাইকে উঠলে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। সারা রাস্তা ভাঙ্গাচোরা। এভাবে আর কতদিন চলতে হবে তার কোন ঠিক নেই। আমাদের ছয় লেন দরকার নেই। দুইলেন ছিলো সেটাই ভালো। আমরা রাস্তা ভালো চাই।' জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে থমকে গেছে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ, ফলে চলাচলের ভোগান্তির শিকার মাজেদা খাতুন নামের এক সরকারি কর্মচারী উপরোক্ত কথা বলেন।
ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইদহ-কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অংশের সড়কটিতে নিয়মিতভাবে মেরামত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ, ধুলাবালি আর ভাঙাচোরা অবস্থা। এতে যান চলাচল হয়ে পড়েছে ধীরগতির ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে।
সাংস্কৃতিক সংগঠক আরিফুল ইসলাম মিটুল বলেন, 'মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া খুবই হতাশাজনক। তিন বছরে মাত্র ২% অগ্রগতি হয়েছে। এখন ভিক্ষা চাই না কুকুর ঠেকা অবস্থা হয়ে গেছে। ফলে ভুক্তভোগী ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। রাস্তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতির কারণে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।'
সরেজমিনে, ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী লাখো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
উইকেয়ার ফেজ-১’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী বলেন, 'জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা নির্ধারিত জায়গায় কাজ শুরু করতে পারছি না। যেসব স্থানে জমি বুঝে পেয়েছি, সেখানে আংশিক কাজ চলছে। জমি হস্তান্তর পেলে দ্রুতগতিতে বাকি কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, 'প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। কিছু জটিলতা থাকলেও সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করা যাবে।'
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার) ফেজ-১-এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে চলমান এই প্রকল্পটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। মেয়াদ আর কয়েকমাস হলেও এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৪ থেকে ৫ শতাংশ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও এখনো মূল সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরুই করা যায়নি। ঝিনাইদহ শহরের বাইপাসের চুটলিয়া মোড় এলাকায় ফ্লাইওভারের আংশিক কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ধোপাঘাটা সেতুর জন্য ব্রিজের গার্ডার নির্মাণ এবং কয়েকটি কালভার্টের আংশিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সড়কের মূল অংশে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









