কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গণপিটুনি দিয়ে এক ফার্নিচার মিস্ত্রি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে (৪২) হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজ। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কাজল আক্তার ও রোমা আক্তার।
রোববার (১২ এপ্রিল) ভোরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই মিস্ত্রি মারা যান। তিনি উপজেলার গুজদিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন ২৬ মার্চ নিহতের ভাই আল আমিন বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ইতিমধ্যে নয়জন আসামি জামিনে আছেন। নিহতের লাশ ঢাকাতেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একখণ্ড জমি নিয়ে একই গ্রামের রহিম, আশিক, কাজু, ফজলু, হোসেন, সজল, শারজাহান, মোফাজ্জল, মাসুম ও পালইকান্দা গ্রামের মো. কামাল জামালের সঙ্গে ফখরুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। গত ২৬ মার্চ সকালে ফখরুল ইসলাম গরুর জন্য ঘাস সংগ্রহ করতে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিরোধী পক্ষের সদস্য রহিম, ফজলু ও কাজুসহ তাদের চার ভাই-ভাতিজা এবং আরও কয়েকজন আত্মীয় মিলে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ফখরুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে ফখরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









