দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে লিচুর বাগান ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অনন্য সম্ভাবনা—‘মধু বিপ্লব’। লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর লিচুর ফলনও বাড়বে বলে আশা করছেন চাষিরা। উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৫৯০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন হয়ে দেড় কোটি টাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, মৌমাছির মাধ্যমে লিচুর মুকুলে পরাগায়ন বাড়ায় গাছপ্রতি ফলন গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে লিচু চাষ যেমন লাভজনক হচ্ছে, তেমনি মধু উৎপাদনও নতুন আয়ের দ্বার খুলে দিয়েছে। ফলে অনেক কৃষকই এখন লিচু বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন।
মধু সংগ্রহে দেশের বিভিন্ন জেলা—টাঙ্গাইল, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও ফরিদপুর থেকে মৌচাষিরা এসে বাগানে শত শত বাক্স বসিয়েছেন। এসব বাক্সে রাণী মৌমাছি ও হাজার হাজার কর্মী মৌমাছি লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে।
ফরিদপুর থেকে আসা এক মৌচাষি বলেন, প্রতি বছরই চিরিরবন্দরে মধু সংগ্রহ করতে আসি। তবে এবার মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে কিছুটা কম মধু পাওয়া গেছে। তারপরও বাজারদর ভালো থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছি।
টাঙ্গাইলের মৌচাষিরা জানান, তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্রুড ও নিউক্লিয়াস বক্স ব্যবহার করে মৌচাষ করছেন। প্রতি ৭ দিন পর পর টানা ৩ দিন প্রতিটি বাগান থেকে দৈনিক ৩ থেকে ৫ মণ পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আউলিয়া পুকুর ইউনিয়নের এক লিচু চাষি বলেন, তার বাগানে প্রায় ২০০টি লিচু গাছ রয়েছে। এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। মৌচাষিদের উপস্থিতিতে পরাগায়ন ভালো হওয়ায় ফলন বেশি হওয়ার আশা করছেন তিনি।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন হলে লিচুর উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। এছাড়া রোগবালাই কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। এতে খরচ কমে ও লাভ বাড়ে।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বাগানে প্রায় ৪০০টির বেশি মৌবক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে আরও বেশি উৎপাদন ও আয় সম্ভব।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









