রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: মনোনয়ন দাখিলে বাধা ও মারধরের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: মনোনয়ন দাখিলে বাধা ও মারধরের অভিযোগ

শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ক্রয় ও দাখিলে বাধা প্রদান এবং শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কিছু সদস্য ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, সমিতির নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র ক্রয় ও জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দিনে সকাল থেকেই সম্মেলন কক্ষের প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে কিছু আইনজীবী ও বহিরাগতরা অন্যান্য দলের প্রার্থীদের প্রবেশে বাধা দেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় এবং একাধিক ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়। এতে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

সভাপতি পদপ্রার্থী এনসিপির আইনজীবী মোসলেম খান অভিযোগ করেন, তিনি প্রথমবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে তাকে সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে পুনরায় গেলে তাকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। 

তিনি বলেন, “আইনজীবীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে এককভাবে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ মুন্সি অভিযোগ করেন, সহকারী নির্বাচন কমিশনার তার ওপর শারীরিক হামলা চালিয়েছেন। 

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছেই যেখানে বিচার চাইবো, সেখানে তারাই যদি হামলায় জড়িত থাকেন, তাহলে আস্থার জায়গা কোথায় থাকে?”

অডিটর পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নব আক্তার অভিযোগ করেন, বহিরাগতদের এনে তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি মনোনয়নপত্র নিতে পারেননি।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মৃধা নজরুল কবির বলেন, “আইন অনুযায়ী যারা অযোগ্য, তারা ছাড়া অন্য সবাই মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরেছেন। কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি।”

সহকারী নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার মনির বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক সম্মেলন কক্ষেই ছিলাম। কারো চেম্বারে গিয়ে মারধরের প্রশ্নই আসে না।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন দাবি করেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।

এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি।”

তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এ ঘটনায় নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে আইনজীবীদের মধ্যে। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি।

বরকত/শরীয়তপুর/অই

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.