নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার হরিহরপাড়া চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ওয়েস্টিজ মালামাল (ঝুট) নামানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ফতুল্লা মডেল থানায় গুলিবিদ্ধ রাকিবুল হাসান রাকিবের পিতা বিএনপি নেতা মো. হোসেন খোকা (৫২) এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাকিবুল হাসান রাকিব (২৩) পড়াশোনার পাশাপাশি এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে ওয়েস্টিজ মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ৯ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গার্মেন্টসটির সামনে লোকজন জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে বাদী ঘটনাস্থলে যান। এ সময় অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি, রামদা, ছোরা, চাকু, লোহার রড, কাঠের লাঠি ও ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে অবরোধ করে এবং টানা-হেঁচড়া করে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে কয়েকজন আসামি পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং হত্যার উদ্দেশে চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে বাবার ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রাকিবুল হাসান রাকিব। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হলে তার বুকের ডান পাশে গুলি বিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পথচারী ইমরান (১৩) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রও গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে স্বজনরা চিকিৎসা দিয়েছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা গার্মেন্টস থেকে ওয়েস্টিজ মালামাল নামাতে না পেরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও মালিকপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, একপক্ষ মামলা করেছে এবং অপর পক্ষও অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









