শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে অস্থির হয়ে উঠেছে আইনজীবী অঙ্গন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতাকর্মীরা অন্যান্য সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ক্রয় ও জমা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী প্রার্থীদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্মেলন কক্ষের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কিছু আইনজীবী ও বহিরাগতরা অবস্থান নেন। ফলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কেউই স্বাভাবিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। অনেককে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগও উঠেছে।
সভাপতি পদপ্রার্থী এনসিপির আইনজীবী মোসলেম খান অভিযোগ করেন, প্রথমবার মনোনয়নপত্র নিতে গেলে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে গেলে তাকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। তার ভাষায়, “এটা একটি পরিকল্পিত নির্বাচন, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠেকিয়ে ফল আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ মুন্সি অভিযোগ করেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার হাতেই তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, যাদের কাছে বিচার চাইবো, তারাই যদি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেন, তাহলে এই নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য?
স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নব আক্তার বলেন, বহিরাগতদের এনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যেন কেউ মনোনয়নপত্রই সংগ্রহ করতে না পারে। এভাবে নির্বাচন হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ কোথায় থাকে? প্রশ্ন করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, এই পরিস্থিতির ফলে শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো প্যানেল বা প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে না পারায় বিএনপি সমর্থিত ফোরামের প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথ সুগম করে নেয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা আইনজীবী ফোরামের নব্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃধা নজরুল কবির বলেন, আইন অনুযায়ী যোগ্য সবাই মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছেন। কাউকে বাধা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
সহকারী নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার মনির দাবি করেন, আমরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছি। কোথাও কোনো অনিয়ম বা হামলার ঘটনা ঘটেনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
তবে মাঠের বাস্তবতা ও অভিযোগের বিবরণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তাদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন নিশ্চিত করতে যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকে, তবে তা আইনজীবী সমাজের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









