নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ছোট কৈলাটী গ্রামে যেন হঠাৎ করেই থমকে গেছে জনজীবন। মাত্র দু’দিন আগের একটি ছোট ফাটল শেষ পর্যন্ত রূপ নিল ভয়াবহ বিপর্যয়ে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে আসমা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উপর নির্মিত পুরনো কালভার্টটি হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বারহাট্টা থেকে চন্দ্রপুর বাজার হয়ে মোহনগঞ্জগামী এই সড়কটি ছিল এলাকার মানুষের নিত্যযাত্রার একমাত্র ভরসা। কিন্তু সম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও পানির তীব্র স্রোতে কালভার্টটির নিচের মাটি সরে গিয়ে প্রথমে দেখা দেয় ফাটল। ঝুঁকি জেনেও চলছিল চলাচল—অবশেষে আশঙ্কাই সত্যি করে ভেঙে পড়ে কালভার্টটি।
কালভার্টটির সম্পূর্ণ কাঠামো ভেঙে পরায় বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় দুর্ভোগ এখন চরমে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আসমা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবুল মনসুর বলেন, “অনেক দিন ধরেই আমরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিলাম। আজ চোখের সামনে পুরো কালভার্টটা ধসে পড়ল এটা আমাদের জন্য বড় ধাক্কা।”
আসমা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মতিউর রহমান বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। কালভার্ট ভেঙে পড়ায় তাদের পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ জরুরি।”
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বারহাট্টা উপজেলা প্রকৌশলী কাজী মো. বাতেন। তিনি জানান, ১৯৯০ সালে নির্মিত এই কালভার্টটির নকশা ছিল পুরনো এবং গভীর ভিত্তি না থাকায় এটি দুর্বল ছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টির পানির তীব্র স্রোতে খালের নিচের মাটি ধুয়ে যাওয়ায় কাঠামোটি আর টিকতে পারেনি।
তিনি বলেন, “নতুন কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রায় ৯১ লাখ টাকার প্রাক্কলন ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।”
এদিকে স্থানীয়রা দাবি করছেন, স্থায়ী সমাধান না আসা পর্যন্ত অন্তত একটি অস্থায়ী বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা হোক, যাতে মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









